আখ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঘরোয়া উপাচার

Written by

in

আখ আখের রস খাইনি এমন কেউ হয়তো নেই। সংস্কৃতিকে ইক্ষু বলা হয়। হিন্দিতে বলা হয় গন্না। এর বৈজ্ঞানিক নাম হল Saccharum officinarum। ভারতবর্ষে প্রচুর পরিমাণে আখ চাষ হয়ে থাকে। আখের রস একটি শীতল এবং পুনর্জীবন দায়ক ও স্ফূর্তিদায়ক রস। প্রতি ১০০ গ্রাম আখ থেকে প্রায় ৫৮ থেকে ৭৪ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। আখের রসে সুক্রোজ, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শর্করা পাওয়া যায়। যা শরীরের মধ্যে তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আখে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনয়েড, পলিফেনল, ফেনোলিক প্রভৃতি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলি কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

  • আখে পটাশিয়াম থাকে যা হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে সহায়ক এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • অখে ক্যালসিয়াম ও নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে যা হার ও দাঁত মজবুত রাখে।
  • আখের মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেশি ও স্নায়ুর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • আখের মধ্যে থাকা আয়রন রক্ত তৈরিতে সহায়ক।

সর্বোপরি আখ হল তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস।

বিভিন্ন রোগে আখের উপকারিতা

প্রচন্ড গরমে 

গরমে অত্যন্ত শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে পড়লে এক গ্লাস আখের রসেই সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়। 

       আবার ঘরোয়া উপায়ে এক গ্লাস আখের রস এর সঙ্গে অর্ধেক লেবু সামান্য আদা মিশিয়ে পান করলে ক্লান্তি দূর হয় সতেজতা আনে।

পিত্ত রোগে 

শরীরে পিত্ত বেড়ে গেলে, হাত-পা জ্বালা করে। এই অবস্থায় এবং পিত্তজনিত রোগে আখের রস নিয়মিত খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। 

লু লাগা 

প্রচন্ড রৌদ্রতাপে লু লাগলে, শরীর খুব খারাপ হয়। এই অবস্থায় দুবেলা আখের রস খেলে উপকার পাওয়া যায়। রোগ উপশম হয়।

লিভারের জন্য 

 আখের রস লিভারের জন্য বেশ উপকারী। প্রচলিত আয়ুর্বেদে আখের রসকে যকৃতের উপকারকারী বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রস্রাবে জ্বালা ও মূত্রনালীর স্বাস্থ্যে সহায়ক

আখের রস পান করলে মূত্রের প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে বলে আয়ুর্বেদে উল্লেখ আছে। আখের রসের সঙ্গে সামান্য ধনিয়া ভিজানো জল একসঙ্গে মিশিয়ে পান করলে প্রস্তাবে জ্বালা দূর হয়।

শুকনো কাশি 

শুকনো কাশি হলে এক গ্লাস আখের রসের সঙ্গে 8 থেকে 10 টা তুলসী পাতা একসঙ্গে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

হজমে সহায়ক

আখের রস এর সঙ্গে সামান্য আদা একসঙ্গে মিশিয়ে পান করলে তা হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

সকালে যদি পরিমিত আখের রস খাওয়া যায়  মলত্যাগ সহজ হতে পারে।

জন্ডিসে

প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থে আখের রস যকৃত এর খুবই উপকারী করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

       তবে জন্ডিসের চিকিৎসায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সতর্কতা

যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদেরকে আখের রস সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

আখের রসের দোকানে সদ্য পিষে বার করা রস হলে তবেই গ্রহণ করবেন। 

দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা আখের রস পান করা উচিত নয়।

কিডনি বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরই নিয়মিত বেশি পরিমাণে আখের রস গ্রহণ করবেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *