চেরি ফল: ব্যবহারে রোগ প্রতিকার

আয়ুর্বেদে চেরি ফলের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। ওকে কেবলমাত্র একটি সুস্বাদু ফল নয়। এর মধ্যে রয়েছে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখার শক্তিশালী বিশেষ  প্রাকৃতিক উপাদান। মিষ্টি চেরি সাধারণত সরাসরি তাজা ফল হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে আর টক চেরি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সস, জুস, বেকিং এবং পেস্ট্রি তৈরিতে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

চেরি ফলের আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ

চেরি ফল টক-মিষ্টি স্বাদ, শীতল গুণ এবং ত্রিদোষের মধ্যে বাত ও পিত্ত দোষকে শান্ত রেখে ত্রিদোষের ভারসাম্য বজায় রাখে। যার জন্য একে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবর্ধক ফল হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় এটি খেলে শরীরে কফ বাড়িয়ে দিতে পারে।

রোগ নিরাময় এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা 

চেরি ফলে থাকা ‘অ্যান্থোসায়ানিন’, প্রাকৃতিক মেলাটোনিন এবং আরো কিছু বিশেষ জৈব যৌগ  একে অনেক জটিল রোগের প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কার্যকর করে তোলে। চেরি ফল প্রধান যে সমস্ত রোগ নিরাময় করে নিচে দেওয়া হলো:

বাত রক্ত (গেঁটে বাত বা ইউরিক অ্যাসিড) নিরাময়

আয়ুর্বেদে গাউট ‘বা তরক্ত’ রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পেলে এবং বাত দোষের ভারসাম্যহীনতার জন্য ঘটে। 

   প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১০ থেকে ১২টি তাজা চেরি খান অথবা চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু না মিশিয়ে আধা কাপ টক চেরির (Tart Cherry) রস পান করুন।

 এটি রক্তের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয় এবং জয়েন্টের ফোলা ভাব ও ব্যথা দ্রুত উপশম করতে সাহায্য করে। 

অনিদ্রা এবং মানসিক মানসিক চাপ দূরীকরণ

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, চেরিতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক মেলাটোনিন হরমোন থাকে। যা মস্তিষ্কের বাত দেখা দিলে যে অনিদ্রা এবং অস্থিরতা দেখা দেয় তা দূর করে। 

 রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে আধা কাপ চেরির জুস পান করুন অথবা এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সাথে ৫-৬টি মিষ্টি চেরি খান এতে স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে। গভীর এবং প্রাকৃতিক ঘুম আসে।

অম্লপিত্ত (অ্যাসিডিটি) এবং হজমের সমস্যা

টক-মিষ্টি চেরি খেলে তা পাচক রস এবং পিত্ত  নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।

 দুপুরের খাওয়ার আধ ঘণ্টা পর মিষ্টি চেরি ফল বা এর রস খেলে এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হজম শক্তি বাড়ায় এবং পেটের জ্বালাপোড়া শান্ত করে।

হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা

চেরির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং পলিফেনল থাকায় এটি হার্টের পেশিকে শক্তিশালী করে তোলে।

এটি শরীরে পিত্ত বেড়ে গেলে পিত্তকে শান্ত করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ধমনিতে ব্লকেজ হলে বা চর্বি জমে গেলে তা দূর করতে সাহায্য করে। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের খাদ্য তালিকায় চেরি ফল রাখলে এটি তাদের হার্টের সুরক্ষা করে।

পেশির ক্লান্তি ও ব্যথা উপশম 

অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করার পর বা ব্যায়াম করার পরে শরীরে বাত ও কফের ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে পেশিতে ব্যথা হয়। ভারী কাজ বা ব্যায়াম করার পর টক চেরির রস পান করলে খুবই উপকার দেয়। এটি পেশির প্রদাহ বা ভেতরের ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্ন ও বার্ধক্য রোধ 

  চেরির ভেতরের অংশ ভালোভাবে পিষে নিয়ে মুখে ১৫ মিনিটের জন্য ফেসপ্যাকের মতো লাগিয়ে রাখুন। এতে চেরির মধ্যে থাকা ভিটামিন A, C এবং E রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে, যার ফলে মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর হয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে এবং প্রাকৃতিক টানটান ভাব আসে।

সেবনের নিয়ম ও সতর্কতা

চেরি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এই মৌলিক নিয়মগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি

সঠিক সময়: সকাল বা দুপুরবেলা চেরি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়। অনিদ্রার সমস্যা না থাকলে  সন্ধ্যার পর চেরি খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

দুধের সাথে নিয়ম: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে টক ফলের সাথে দুধ মেশানোকে ‘বিরুদ্ধ আহার’ বলা হয়। তাই কেবল মাত্র সম্পূর্ণ মিষ্টি চেরিই দুধের সাথে খাবেন, টক চেরি দুধের সাথে খাওয়া শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ।

পরিমিত মাত্রা: একজন সুস্থ মানুষের দিনে ৮০-১০০ গ্রাম চেরির রস বা ১০ থেকে ১৫টি চেরি  খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খেলে গ্যাসের সমস্যা বা কফ বৃদ্ধি পেতে পারে।

Leave a Comment