পেয়ারার দ্বারা রোগ প্রতিকার

Written by

in

পেয়ারা আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি ফল। ভারত এবং বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে পেয়ারা উৎপাদন হয়ে থাকে হিন্দিতে একে বলা হয় আমরুদ। এর ভিতরের শাঁস সাদা ও লাল রঙের হয়ে থাকে। এই ফল কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া হয়ে থাকে। এটি খুব সুস্বাদু। পেয়ারার দ্বারা জ্যাম জেলি আচার ও মোরব্বা তৈরি করা যায়। টাটকা পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বিটামিন সি এবং উপকারী জৈব যৌগ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পেয়ারা কে ভারতীয় আপেল বলা হয় , একটি পেয়ারা একটি আপেলের থেকেও বেশি উপকারী হয়ে থাকে। 

      একটি পাকা পেয়ারা তে প্রায় ২২০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন থাকে। পেয়ারা শরীরে শক্তি প্রদান করে, মনকে স্ফূর্তি দেয় এবং দেহকে শক্তিশালী করে তোলে। পেয়ারা নিসার প্রতিষেধক হিসাবেও ভালো কাজে দিয়ে থাকে। মিষ্টি পেয়ারা বেশি উপকারী হয়ে থাকে দুপুরের আহারের এক ঘন্টা পরে লেবু নুন ও মরিচ গুলোর সঙ্গে পেয়ারা খেলে এটি খুব সুস্বাদু এবং হজমে উপকারী হয়ে থাকে। তবে বেশি পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয় কারণ এতে পেট ব্যথা করতে পারে এবং বারবার মলত্যাগ হতে পারে।

রোগ প্রতিকারের পেয়ারার ব্যবহার 

দাঁতে ব্যথা 

পেয়ারা গাছের পাতার রস দাঁতের ব্যথায় ভীষণভাবে উপকারী হয়ে থাকে। প্রথমে কয়েকটি তাজা পেয়ারা পাতা নিয়ে পরিষ্কার করে এগুলিকে ভালোভাবে পিষে   অল্প জলের সঙ্গে মিশিয়ে তা গরম করে নিতে হবে। ওই মিশ্রণ গরম অবস্থাতে মুখের মধ্যে ভরে রাখতে হবে যাতে করে দাঁতের গোড়ায় মিশ্রণটি লাগে। অথবা মিশ্রণটি একদম গারো করে দাঁতের যন্ত্রণার স্থানে লাগাতে হবে। এইভাবে কয়েকবার লাগালে দাঁতের ব্যথায় ব্যথার উপশম হবে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য 

ঠিকমতো খাদ্যদ্রব্য না খেলে বা খাওয়ার অনিয়ম হলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের লক্ষণ দেখা যায়। আবার বংশানুক্রমে অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।  প্রতিদিন এক থেকে দুইটি পেয়ারা হালকা মরিচ গুলোর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং মলত্যাগে কোনরকম কষ্ট হয় না। 

সর্দি কাশি 

এই রোগে পেয়ারা দারুণভাবে কার্যকরী হয়ে থাকে একটি গোটা পেয়ারা খেয়ে এক গ্লাস জল পান করলে সর্দি কাশি থেকে উপশম পাওয়া যায়। তবে জল পান করাবার সময় নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া চলবে না। 

মুখের ভেতরের রোগ 

মাড়ির রোগে পেয়ারা গাছের কচি পাতা উপকারী হয়ে থাকে। পেয়ারা গাছের কচি পাতা অনেকক্ষণ ধরে চিবোতে হবে। এতে নারীর কোন রোগ হবে না পাতা জীবনের পর পরীক্ষার জলে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। যারা মুখের রোগে ভুগছেন কিছুদিন যাবত নিয়মিত ভাবে এই প্রক্রিয়া টি পালন করলে মুখের রোগের হাত থেকে পরিত্রান পেতে পারবেন। 

পুরনো কাশি 

কয়েকদিন নিয়ম করে পেয়ারা খেলে যে কোন পুরনো কাশির উপশম হয়ে থাকে 

শিশু রোগ 

শিশুদের বিভিন্ন রোগে পেয়ারা খুবই উপকারী। যে সমস্ত শিশু বার বার মলত্যাগ করে সেই শিশুকে পেয়ারা পাতার রস গরম করে খাওয়ালে বারবার মলত্যাগ করা বন্ধ হবে। এই রস দিনে দুবার করে পরপর তিনদিন খাওয়াতে হবে।।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *