আপেল: রোগ প্রতিরোধে আপেলের ভূমিকা

আপেল আমাদের সবার কাছেই পরিচিত হলেও আপেলের পুষ্টিগুণ কিভাবে আমাদেরকে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে আমরা তা জানি না। পৃথিবীর প্রায় অনেক দেশেই আপেল চাষ করা হয়ে থাকে তার মধ্যে ভারত বর্ষ অন্যতম একটি দেশ। ফলে ভারতীয়রা অসুস্থতার সময়কালে প্রায়শই আপেল খেয়ে থাকেন।

আপেলের সর্বোচ্চ উপাদান হল জল। এছাড়াও রয়েছে  কার্বোহাইড্রেট , সুগার বা শর্করা, ফাইবার বা আঁশ। প্রোটিন, ফ্যাট এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।

আপেলের মধ্যে সবথেকে বেশি মাত্রায় রয়েছে ভিটামিন C এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন E, B3, B2, B1 ।  ভিটামিন K, ভিটামিন বি9 ভিটামিন A মাত্রা তুলনামূলকভাবে  কম ।

এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ রয়েছে যেমন পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। আয়রন, জিংক থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।

আপেলকে কাঁচা ও খাওয়া যায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তাদের দুর্বলতা নাশের জন্য আপেল খুবই উপকারী। অতএব বলা যায় আপেল বা আপেলের রস দুর্বলতা দূর করে। বলা যায় এটি অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল। এটি খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় কোষ্ঠকাঠিন্য নাশ হয়। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় আপেল খোসা শুদ্ধ চিবিয়ে খেলে দেহের ক্ষয় দূর হয় এবং দেহ পুষ্ট হয়। 

আপেলের খোসাতে প্রচুর ভিটামিন থাকে, ফলে খোসা না ছাড়িয়ে ভিতরের বীজ অর্থাৎ দানা ফেলে দিয়ে খাওয়া উচিত।  বয়স্ক এবং দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আপেলের খোসা ছাড়িয়ে, সেই খোসা বা ছাল সেদ্ধ করে তার জল খাওয়া খুবই উপকারী। এই জলের সঙ্গে পাতিলেবুর রস দিয়ে খেলে কিংবা মধু মিশিয়ে খেলেও খুবই উপকার পাওয়া যায়।। 

আমাশয় এবং পেটের বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে, টাইফয়েড ইত্যাদিতে আপেলের খোসা সিদ্ধ করে সেই জলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। একটা প্রচলিত কথা আছে যে প্রত্যেকদিন একটি করে আপেল খেলে রোগ দূরে থাকে। অর্থাৎ প্রতিদিন আপেল খেলে রোগব্যাধি আমাদের থেকে দূরে থাকবে। এটি রক্তাল্পতা, প্রবল জ্বর, দুর্বলতা, মানসিক নিরাশা, আন্থাইটিস প্রভৃতি রোগের থেকে বাঁচতে উপকার করে।

আপেলের খোসা ফেলা উচিত নয় কেন?

আমরা অনেকেই আপেলের খোসা ফেলে দিই কিন্তু আপেলের এই খোসা আমাদের পক্ষে খুবই উপকারী। কারণ আপেলের খোসাতেই থাকে একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রচুর আঁশ, ফ্ল্যাভোনয়েড, কোয়ারসেটিন। তাই আপেলকে ভালোভাবে ধুয়ে ফোশাসহ খাওয়াই ভালো। আপেল খাওয়ার সব থেকে ভালো সময় সকালবেলা, দুপুরের আগে হালকা খাবার হিসাবে , ব্যায়ামের আগে কিংবা পরে।

রোগ প্রতিকারের আপিলের গুরুত্ব

মোটা হতে হলে 

একটি আপেল কেটে তিন চার ভাগ করে সেই আপেলের টুকরোকে একটি প্লেটে সাজিয়ে রেখে সেই প্লেট সারারাত এমন স্থানে রাখতে হবে যাতে তার উপরে চাঁদের আলো পড়ে। তবে কাজটি সাবধানতার সঙ্গে করবেন যাতে কোনরকম কীট পতঙ্গ থেকে শুরু করে পশুপাখি কেউ এই আপেলে বিষক্রিয়া না ঘটায়। পরে সকালবেলা হাতমুখ ধুয়ে সেই আপেলের টুকরো গুলিকে খেলে এবং এরূপ কার্য কয়েকদিন যাবত করলে দুর্বল শরীরে শক্তি ফিরে আসবে এবং স্বাস্থ্য ভালো হবে। 

আন্ত্রিক ক্ষত 

যদি আমাশয় বা আন্তরিক ক্ষত হয়ে থাকে নিয়মিতভাবে আপেলের রস খেলে খুব উপকার হয়। 

আপেলের চা 

আপেলের খোসা দিয়ে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং সুগন্ধিত চা তৈরি করা যায় এই চা সাধারণত চা বা কফির মত ক্ষতিকারক নয়। বিশেষ করে বয়স্ক এবং দুর্বল মানুষের জন্য এইটা খুবই প্রভাবকারী। মনে করলে এই চায়ের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। 

হৃদরোগ প্রতিরোধে

আপেলের মধ্যে পেকটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তনালী সুস্থ রাখে, হৃদ যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

আপেলের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমায়, রক্ত সঞ্চালন আরো উন্নত করে। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা যদি আপেল না খেয়ে আপেল এর ছাল খেলে তাদের পক্ষে খুবই উপকারী। এটি রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা কমায়।

ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক

আপেলের খোসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে, ফ্রি রেডিক্যালের প্রভাব থেকে কিছুটা রক্ষা করে।

হজমশক্তি উন্নত করে

আপেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন থাকায় এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া দেরকে পুষ্টি দেয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং হজম প্রক্রিয়া কে সহজ করে তোলে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে

আপেলের আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

আপেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে তোলে সর্দি কাশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের সুস্থতায়

আপেলের মধ্যে কোয়ারসেটিন থাকায় তা মস্তিষ্কের কোষ কে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

হাড় মজবুত রাখতে

আপেলে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান থাকায় তা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হাড় এর ক্ষয় কমায়।

ত্বক ও চুলের সৌন্দর্যে

নিয়মিত আপেল খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয় শরীরে কোলাজেন উৎপাদন করতে সাহায্য করে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই সকাল বেলা খোসা সহ একটি আপেল খাওয়া খুবই উপকারী।

দুর্বলতা দূর করতে

আপেল খেজুর ও মধু একত্রে ছেলে তা দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।

Leave a Comment