Blog

  • পাতি লেবুতে রোগমুক্তি

    পাতি লেবু আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। পাতিলেবু কে হিন্দিতে নিম্বু বলা হয়ে থাকে। ভাতের সঙ্গে পাতি লেবু খাওয়া বেশ জনপ্রিয়। পাতি লেবু এতটাই উপকারী যে এর তুলনা একজন ঘরোয়া ডাক্তারের সঙ্গে করা হয়। এটি আকারে ছোট হলেও এর কাজ বেশ বড়। বনস্পতিক দিক থেকে একে সাইট্রিক অম্ল বলা যায়। পাতি লেবুতে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ পূর্ণ থাকে। এর মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এছাড়াও এতে ক্যালসিয়াম ও লৌহ পদার্থ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। এর ক্ষমতা খুবই আশ্চর্যজনক।

      প্রতিদিন যদি কয়েকবার পাতিলেবুর রস খাওয়া যায় তাহলে অধিক রক্তস্রাব, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, যকৃত শোথ, গ্যাসীয় অম্ল প্রভৃতি  রোগে উপকার পাওয়া যায়। ঔষধি রূপে নির্বাচিত সমস্ত ধৈর্য পদার্থের মধ্যে পাতিলেবু সর্বাধিক প্রচলিত। ঠান্ডা লাগলে, গেটে বাত হলে, গলায় ক্ষত হলে, পেটে গ্যাস হলে, যকৃতের সমস্যা হলে, মাথার যন্ত্রণায়, হৃদশূল, পিত্তাধিক্য হলে প্রকৃতি সমস্যায় পাতিলেবুর রস প্রতিদিন কয়েকবার খেলে অত্যন্ত উপকার পাওয়া যায়। 

    লেবুর রসের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট ফাটে না। মলত্যাগের দেড় ঘন্টা আগে এক গ্লাস গরম জলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে পায়খানা পরিষ্কার হয়। পোকামাকড় কামড়ালে সেই স্থানে জ্বালা যন্ত্রণা হয়। এমন অবস্থায় দংশন স্থানে পাতিলেবুর রস লাগালে জ্বালা যন্ত্রণা কমে যাবে। 

    পাতিলেবুর ভেষজ উপকারিতা

    আঙ্গুল হাড়া 

    বিশেষ করে মেয়েদের আঙ্গুলের খাঁজে দুর্গন্ধযুক্ত ঘা হয় পাতিলেবুর পাতা নিয়ে তাতে লবণ মিশিয়ে ওই মিশ্রণ ক্ষতস্থানে লাগালে এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

    মুখে দুর্গন্ধ 

    মুখের ভিতরে দুর্গন্ধ হলে দুর্গন্ধ দূর করতে পাতিলেবুর সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে প্রতিদিন কুলকুচি করতে হবে।

    কোষ্ঠকাঠিন্য 

    কোষ্ঠকাঠিন্য হলে বা পেট পরিষ্কার করে রাখতে হলে এক কাপ পাতিলেবুর জলে বিট লবণ ও মরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে রোজ সকালে পান করতে হবে। এতে অত্যন্ত উপকার পাওয়া যায়। 

    বর্ষা ঋতুর রোগ 

    বর্ষাকালী ন বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব হয় স্যাতসাতে আবহাওয়াতে অনেক সময় পেটের অসুখ ও দেখা দেয়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন পাতিলেবুর সঙ্গে সৈন্দ্ধব লবণ মিশ্রিত জল পান করা উচিত। এতে রোগীর হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন।

    গ্রীষ্মকালীন গরম হাওয়া লেগে অসুস্থ 

    গ্রীষ্মকালীন সূর্যের তাপে ও প্রচন্ড গরমে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়লে এক গ্লাস জলে পাতি লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে কিছুক্ষণের মধ্যে উপকার পাওয়া যায়। 

    অকালে চুল পড়া 

    চুলের গোড়ায় পাতি লেবুর রস ঘষে ঘষে ভালো করে মাখতে হবে। অন্তত পর পর ১৫ দিন এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। পেটে চুলের শ্রী বৃদ্ধি পাবে এবং চুল পড়া বন্ধ হবে।

  • পেঁপে এর আয়ুর্বেদিক উপকারিতা

    পেঁপে ভারতীয় একটি ফল। এটি বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। ভারত এবং বাংলাদেশের প্রচুর পরিমাণে পেঁপে উৎপাদন হয়ে থাকে। হিন্দিতে একে বলা হয় পপীতা। আমরা কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতে পেঁপে খেয়ে থাকি। এছাড়া আমরা পেঁপে কে সবজি হিসেবে রান্না করে ও খেয়ে থাকি।

         পেঁপের বীজ বিশেষ করে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। নিয়মিতভাবে কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। যকৃত ও প্লীহা এর স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে পেঁপে বিশেষভাবে উপকারী হয়ে থাকে। এছাড়াও নিয়মিত পেঁপে খেলে চোখের রোগ, ক্ষয় রোগ, স্কার্ভি ও রক্ত হীনতা রোগী খুবই উপকারী। পেঁপে রক্ত পরিষ্কার করতেও অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। 

    পেঁপের ব্যবহারে রোগ মুক্তি

    স্তন দুধের স্বল্পতা 

    সদ্য মা হওয়ার পরে অনেক মহিলারা রক্তহীনতায় ভুগে থাকেন যার ফলে টনির দুধের পরিমাণ কমে যায়। যে সমস্ত মহিলারা এই সমস্যার মধ্যে পড়েন, সমস্যা দূর করতে তাদের উচিত প্রতিদিন কাঁচা পেঁপে তরকারি হিসেবে খাওয়া।

    প্লীহা যকৃত আমাশয় পেট বা বুকে জ্বালা এবং পেটের রোগ 

    আমাশয় বুক জ্বালা পেট ভারী ও গ্যাস প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিলে টাকা পেঁপের রস বার করে সেই রসের সঙ্গে জল মিশিয়ে খেলে অবশ্যই সুফল পাবেন। কাঁচা পেঁপের তরকারি অল্প মসলা দিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া কাঁচা পেঁপে টুকরো খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। 

    অল্প মসলা বা তেল দিয়ে কাঁচা পেঁপের ঝোল শিশু বৃদ্ধ সকলেই খেতে পারেন। এতে পেটের রোগ, যকৃত, প্লিহার দোষ ও আমাশয়ে অত্যন্ত উপকার পাবেন।

    দাস্ত রোগ

    বারবার ব্যস্ত হলে কাঁচা পেঁপে খুব উপকারী হয়ে থাকে। প্রথমে কাঁচা পেঁপে টুকরো টুকরো করে কেটে জলে সেদ্ধ করতে হবে। এতে যেই মিশ্রণটি তৈরি হবে ওই মিশ্রণটি তিন থেকে চার দিন পান করলে পেটের রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। 

    উচ্চ রক্তচাপ 

    যারা উচ্চ রক্তচাপ রোগে ভুগছেন তাদের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। নিয়মিতভাবে সকাল ও সন্ধ্যায় কয়েক টুকরো পেঁপে খেলে অবশ্যই উপকার পাবেন।

    দেহের সৌন্দর্য 

    বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সৌন্দর্য ও কমে যায়। নিয়মিতভাবে প্রতিদিন পেঁপে খেলে শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। 

    অনিয়মিত ঋতু 

    প্রায় এই অধিকাংশ স্ত্রী লোক এই রোগে ভোগেন। এতে নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হয়, গা হাত মেজ মেজ করে এবং আলস্য ভাব দেখা দেয়। কোনো কাজে মন বসে না। এক্ষেত্রে পেঁপের বীজ শুকনো করে এক গ্রাম পরিমাণে নিয়ে গরম জলের সঙ্গে খাবেন। এক সপ্তাহ যাবত এইভাবে খেলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যায়।

    কোষ্ঠকাঠিন্য 

    যাদের পায়খানা পরিষ্কার হয় না, অল্প পায়খানা হয়, পেটে মল জমে থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন পাকা পেঁপের টুকরো খেলে উপকার পাবেন ।

    চর্মরোগ 

    খোস, পেচড়া, দাদ, খুশকি, একজিমা প্রকৃতি চর্ম রোগে এক চামচ পেঁপে এর আঠার সঙ্গে চার চামচ সরষের তেল মিশিয়ে রোগগ্রস্ত স্থানে ভালোভাবে প্রলেপ দিলে চর্মরোগ থাকে না।

  • পেয়ারার দ্বারা রোগ প্রতিকার

    পেয়ারা আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি ফল। ভারত এবং বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে পেয়ারা উৎপাদন হয়ে থাকে হিন্দিতে একে বলা হয় আমরুদ। এর ভিতরের শাঁস সাদা ও লাল রঙের হয়ে থাকে। এই ফল কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া হয়ে থাকে। এটি খুব সুস্বাদু। পেয়ারার দ্বারা জ্যাম জেলি আচার ও মোরব্বা তৈরি করা যায়। টাটকা পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বিটামিন সি এবং উপকারী জৈব যৌগ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পেয়ারা কে ভারতীয় আপেল বলা হয় , একটি পেয়ারা একটি আপেলের থেকেও বেশি উপকারী হয়ে থাকে। 

          একটি পাকা পেয়ারা তে প্রায় ২২০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন থাকে। পেয়ারা শরীরে শক্তি প্রদান করে, মনকে স্ফূর্তি দেয় এবং দেহকে শক্তিশালী করে তোলে। পেয়ারা নিসার প্রতিষেধক হিসাবেও ভালো কাজে দিয়ে থাকে। মিষ্টি পেয়ারা বেশি উপকারী হয়ে থাকে দুপুরের আহারের এক ঘন্টা পরে লেবু নুন ও মরিচ গুলোর সঙ্গে পেয়ারা খেলে এটি খুব সুস্বাদু এবং হজমে উপকারী হয়ে থাকে। তবে বেশি পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয় কারণ এতে পেট ব্যথা করতে পারে এবং বারবার মলত্যাগ হতে পারে।

    রোগ প্রতিকারের পেয়ারার ব্যবহার 

    দাঁতে ব্যথা 

    পেয়ারা গাছের পাতার রস দাঁতের ব্যথায় ভীষণভাবে উপকারী হয়ে থাকে। প্রথমে কয়েকটি তাজা পেয়ারা পাতা নিয়ে পরিষ্কার করে এগুলিকে ভালোভাবে পিষে   অল্প জলের সঙ্গে মিশিয়ে তা গরম করে নিতে হবে। ওই মিশ্রণ গরম অবস্থাতে মুখের মধ্যে ভরে রাখতে হবে যাতে করে দাঁতের গোড়ায় মিশ্রণটি লাগে। অথবা মিশ্রণটি একদম গারো করে দাঁতের যন্ত্রণার স্থানে লাগাতে হবে। এইভাবে কয়েকবার লাগালে দাঁতের ব্যথায় ব্যথার উপশম হবে। 

    কোষ্ঠকাঠিন্য 

    ঠিকমতো খাদ্যদ্রব্য না খেলে বা খাওয়ার অনিয়ম হলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের লক্ষণ দেখা যায়। আবার বংশানুক্রমে অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।  প্রতিদিন এক থেকে দুইটি পেয়ারা হালকা মরিচ গুলোর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং মলত্যাগে কোনরকম কষ্ট হয় না। 

    সর্দি কাশি 

    এই রোগে পেয়ারা দারুণভাবে কার্যকরী হয়ে থাকে একটি গোটা পেয়ারা খেয়ে এক গ্লাস জল পান করলে সর্দি কাশি থেকে উপশম পাওয়া যায়। তবে জল পান করাবার সময় নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া চলবে না। 

    মুখের ভেতরের রোগ 

    মাড়ির রোগে পেয়ারা গাছের কচি পাতা উপকারী হয়ে থাকে। পেয়ারা গাছের কচি পাতা অনেকক্ষণ ধরে চিবোতে হবে। এতে নারীর কোন রোগ হবে না পাতা জীবনের পর পরীক্ষার জলে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। যারা মুখের রোগে ভুগছেন কিছুদিন যাবত নিয়মিত ভাবে এই প্রক্রিয়া টি পালন করলে মুখের রোগের হাত থেকে পরিত্রান পেতে পারবেন। 

    পুরনো কাশি 

    কয়েকদিন নিয়ম করে পেয়ারা খেলে যে কোন পুরনো কাশির উপশম হয়ে থাকে 

    শিশু রোগ 

    শিশুদের বিভিন্ন রোগে পেয়ারা খুবই উপকারী। যে সমস্ত শিশু বার বার মলত্যাগ করে সেই শিশুকে পেয়ারা পাতার রস গরম করে খাওয়ালে বারবার মলত্যাগ করা বন্ধ হবে। এই রস দিনে দুবার করে পরপর তিনদিন খাওয়াতে হবে।।

  • নাশপাতি এর ভেষজ উপকারিতা

    নাসপাটি ফলটি আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। সমসিতোষ্ণ অঞ্চলে নাশপাতি এর উৎপাদন ব্যাপক পরিমাণে হয়ে থাকে। ইতালিতে প্রচুর পরিমাণে এর চাষ প্রচুর পরিমাণে হয়ে থাকে। নাশপাতি উৎপাদনে চীন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই ফলে থাকা পুষ্টি উপাদান এবং উপকারী জৈব যৌগ আমাদেরকে সুস্থ সবল রাখতে সাহায্য করে। রক্তাল্পতা রোগে, দুর্বলতা, জ্বর, অতিসার, সর্দি, কাশিতে নাশপাতি খুব উপকার করে থাকে। এই ফল ঠান্ডা নাশক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরকারক, হৃদপিণ্ড, যকৃত ও মস্তিষ্কের রোগে বিশেষভাবে উপকার করে থাকে। 

    আমাদের ভারতবর্ষে কাশ্মীরে যে সমস্ত নাশপাতি উৎপাদন হয়ে থাকে তা উৎকৃষ্ট মানের। নাশপাতির খোসা ছাড়িয়ে রাখলে কিছুদিন পর্যন্ত নাশপাতি ভালো থাকে তবে খোশাসুদ্ধ রাখলে তাড়াতাড়ি পচে যেতে পারে। 

    রোগ প্রতিরোধে নাশপাতি

    বীর্যের শক্তিহীনতা 

    যারা বীর্যের শক্তিহীনতা রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তারা নেসপাতির সিজনে প্রতিদিন একটি করে ন্যাশপাতি খেলে বীর্যের শক্তিহীনতা রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করতে পারবেন। 

      অবশ্য যে সকল পুরুষ অতিরিক্ত বীর্য ক্ষয় করেন তাদের এ ব্যাপারে সংযমী হতে হবে। কারণ বীর্যের শক্তিহীনতা থেকে আরো নানা রোগ দেখা দিতে পারে। 

    অরুচি 

    অরুচি দেখা দিলে নাশপাতি রুচি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে।। প্রতিদিন ১০০ গ্রাম নাশপাতি এর টুকরো বিথী লবণের সঙ্গে মিশিয়ে সকাল ও বিকেল সেবন করলে অরুচি কেটে যাবে। 

    পেটে গ্যাস 

    পেটে গ্যাস হলে তা দূর করতে নাশপাতি যথেষ্ট উপকার করে থাকে। নাশপাতি খোসা ছাড়িয়ে তিন-চার টুকরো করে ভেতরের বীজ ফেলে দিতে হবে। এরপর নাশপাতি এর টুকরো গুলির সঙ্গে অল্প হিং আর জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে সেই মিশ্রণ সেবন করলে পেটের গ্যাস দূর হয়। 

       তাছাড়া হিং ও জিরে গুঁড়ো এর পরিবর্তে গোলমরিচ ও শৈন্ধব লবণ মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। এতে এর কার্যকারিতা কিছুটা বাড়তে পারে।। 

    টাইফয়েড 

    টাইফয়েড রোগীদের জন্য নাশপাতি একটি আদর্শ ফল। টাইফয়েড রোগীকে নাস্তাতির টুকরো খেতে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

  • নারকেল ব্যবহারে ঘরোয়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

    ভারতীয় শাস্ত্রে নারকেল অতি পবিত্র একটি ফল। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ, বিভিন্ন উৎসবে এবং শুভ কাজে নারকেল কে পবিত্র ফল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি প্রধানত উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে সমুদ্রের নিকটস্থ অঞ্চলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফলে থাকে। 

     দেহের পুষ্টি সাধনে নারকেলের তুলনা নেই। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর বহু গুণের বর্ণনা পাওয়া যায়। নারকেলের থেকে বিশ্বের সর্বোত্তম বনস্পতি তেল পাওয়া যায়। সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট, খাদ্য তেল হিসেবে, কৃত্রিম মাখন তৈরিতে, সিন্থেটিক রাবার তৈরিতে, গ্লিসারিন হাইড্রোলিক দ্রবণ ও প্লাস্টিমাইজার ইত্যাদিতে নারকেল তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গরমকালে এটি একটি আনন্দদায়ক পেয়। 

    নারকেল তেল অম্ল পিত্ত এবং শরীরের নানা ধরনের ব্যথার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে আয়ুর্বেদিক ঔষধে বৃহৎ নারকেল খন্ড নামে এর প্রচলন আছে দৈহিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে নারকেল এর উপযোগিতা রয়েছে এর আশ্চর্য গুণাবলী এর জন্য এটি সর্বক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যাদের শরীর অত্যন্ত গরম, বদহজম, রক্ত বিকারের শিকার হয়েছেন যারা তারা কাঁচা নারকেল খেলে খুবই উপকার পাবেন। শুধু তাই নয় এটি বীর্য ধারণের ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে। 

    নারকেলের জল আমাদের পিপাসা দূর করতে সাহায্য করে থাকে, খুব হালকা হওয়ার ফলে পেটের রোগীদের পক্ষে এটি খুবই উপকারী। এটি বীর্যবর্ধক খুদা বৃদ্ধিকারক এবং পিত্তনাশক। নারকেলের তেল মাথায় মাখলে চুল ঘন হয় লম্বা হয় এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে নারকেলের তেল এর মধ্যে কডলিভার তেলের সমান গুন আছে। 

    নারকেল এর ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসা 

    শিশুর সুন্দর চোখ ও মুখ 

    কোন গর্ভবতী মহিলা নারকেল ও মিছরি নিয়মিত খেলে গর্ভের শিশুর চোখ খুব সুন্দর ও বড় হয়। 

    শিশুরা দুধ তুললে 

    অনেক শিশু দুধ তুলে থাকে, এক্ষেত্রে ওই শিশুটিকে এক চা চামচ নারকেলের জল পান করালে শিশুর দুধ তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। 

    ত্বকের কালো দাগ 

    কোনরকম কঠিন রোগের কারণে কিংবা অনিদ্রা দেখা দিলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ দেখা দেয়। এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে তুলসী পাতার রস ও কাঁচা নারকেল পিষে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। ওই মিশ্রণটি দেহের কালো অংশের প্রলেপ দিলে কালো দাগ দূর হয়ে থাকে।

    খুশকি 

    অনেকের মাথায় খুশকি হয়ে থাকে যার কারণে অস্বস্তিবোধ হয়। মাথায় খুশকির জন্য সবার আগে পেট ঠিক রাখতে হবে। এবং নারকেল তেল মাথায় মাখলে খুশকির হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

    কৃমি 

    কৃমি হলে সকালে খালি পেটে নারকেল চিবিয়ে খেলে কৃমি নিরাময় হয়। মলের সঙ্গে কৃমি বাইরে বেরিয়ে যায়।

    অনিদ্রা 

    বিভিন্ন কারণে অনিদ্রা রোগ দেখা দেয়। নিয়মিতভাবে কিছুদিন যাবত নারকেলের জল খেলে অনিদ্রা দূর হয়।

    পুরনো কাশি

    অনেক সময় বুকে সর্দি বা কফ বসে যায়। যার কারণে গলায় খুসখুসে কাশি দেখা দেয়। এই অবস্থায় নারকেল চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। 

    মাথার যন্ত্রণা 

    অনেকেই মাথার যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন যা সাধারণত সর্দির জন্য হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যথা উপশম হয়। 

    আধ কপালে 

    অনেক মানুষই এই রোগে ভুগে থাকেন। আধ কপালে মাথাব্যথা তে কপালের অর্ধেকে যন্ত্রণা হয়ে থাকে এবং কপালের অর্ধেকে কোন যন্ত্রণা থাকেনা। এক্ষেত্রে নারকেলের জল কপালে প্রলেপ দিলে যন্ত্রণা উপশম হয়ে থাকে। 

    শুকনো চেহারা

    অনেক সময় রোগ ব্যাধি ছাড়াও চেহারা শুকনো হয়ে যায় এবং ত্বক তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে সারা শরীরে নারকেলের তেল মাখলে তেলের মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদান সমূহ ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে। 

    হাত পা ও ঠোঁট ফাটা 

    শীতকালে আমাদের হাত পা ও ঠোঁট ফেটে যায় ও ফেটে যাওয়া স্থানে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে। নিয়মিত নারকেলের তেল মাখলে হাত পা ও ঠোঁট ফাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ফাটা স্থানে নারকেল তেলের প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। 

    প্রসবের পর কষ্ট 

    অসুখ হওয়ার পর অনেক প্রস্তুতি মহিলার নানা রকম কষ্ট বা উপসর্গ দেখা দেয়। এই অবস্থায় নারকেল পিষে গুড়ের সঙ্গে খেলে অনেকাংশে কষ্ট বা উপসর্গ কম হয়।

    ঠোঁট কালো হলে 

    অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ঠোঁট কালো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে পাতি লেবু রস সমান পরিমাণে মিশিয়ে ঠোঁটে দিলে কালো দাগ দূর হয়। 

    ক্ষত বা আঘাত লাগা 

    কোন কারনে আঘাত লাগলে বা ক্ষত হলে নারকেল তেলের সঙ্গে বোরিক পাউডার ও সামান্য হলুদ মিশিয়ে সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। 

    হাজা 

    বেশি জল ঘাটলে বা জলের কাজ করলে পায়ের আঙুলে হাতের আঙুলে হাজার সৃষ্টি হয়। এতে হাজা এর স্থানে খুব যন্ত্রণা ও ব্যথা হয়ে থাকে, গন্ধ হয়। এক্ষেত্রে নারকেল বেটি তার রস হাজা এর স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

    মোলায়েম ত্বকের জন্য 

    দেহের ত্বককে মোলায়েম করে রাখতে চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে মোম মিশিয়ে সেই মিশ্রণ সরা শরীরে মাখার পর হালকা গরম জলে স্নান করতে হবে। এইভাবে নিয়মিত করলে ত্বক মোলায়েম হবে। 

    আগুনে পোড়া 

    দেহের কোন অংশ পুড়ে গেলে জলের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে পুড়ে যাওয়া স্থানে লাগালে যারা যন্ত্রণা কমে। এইভাবে নিয়মিত করলে পোড়া দাগ ও মিলিয়ে যেতে পারে।

  • তরমুজ এর আয়ুর্বেদিক উপকারিতা

    তরমুজ আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। এটি প্রধানত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে উৎপন্ন হয়। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে এর চাষ হচ্ছে। তরমুজের রস খুবই শ্বাসযুক্ত হয়ে থাকে এবং দেহের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তরমুজ পিত্তনাশ করে শরীরকে শান্ত ও শীতল করে তোলে। এটি সূর্যতাপে অত্যাধিক গরম ও লু থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। একে পাচক ও পুনর জীবনদাতা বলা হয়ে থাকে। 

    তরমুজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ লবণ এবং উপকারী জৈব যৌগ থাকে। 

    তরমুজ পিপাসা শান্ত করতে সাহায্য করে, অনেকের মতে তরমুজ হৃদপিন্ডের শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, তরমুজের রস মিছরি বা চিনির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পিত্তের উপকার হয়। তার ফলে পেটে এসিড বা ক্ষারের উৎপত্তি হয় না।

    তরমুজের ভেষজ উপকারিতা

    পিত্ত রোগ 

    পিত্ত দূষিত হলে বিভিন্ন রকমের রোগ দেখা দেয়। যেমন মাথার যন্ত্রণা, চোখে অন্ধকার দেখা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তরমুজের শরবত খুবই উপকারী একটি পানীয়। তরমুজের শরবত খেলে মুখরাশয়ের জ্বালা কমে এবং নিয়মিত প্রস্রাব হয়। 

    হৃদপিন্ডের দুর্বলতা 

    যারা দীর্ঘদিন ধরে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন কুড়ি গ্রাম তরমুজ চূর্ণ উপযুক্ত পরিমাণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করলে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতায় আশ্চর্যজনকভাবে উপকার পাওয়া যায়।

    পিপাসায় 

    গ্রীষ্মকালে গ্রীষ্ম প্রধান দেশের মানুষরা কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর পিপাসার্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তরমুজের রস অত্যন্ত উপকারী। তরমুজের রস পিপাসা নিবারণ করতে সাহায্য করে, দেহে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, প্রস্রাব সরল হওয়ার ফলে দেহের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর বজ্র পদার্থ প্রস্রাবের সঙ্গে বাইরে বের করে দেয়। 

    সাবধানতা 

    • যাদের শ্বাসকষ্ট রোগ রয়েছে এবং যারা সর্দি কাশি রোগে ভুগছেন তাদের পক্ষে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়। 
    • একসাথে অতিরিক্ত পরিমাণে তরমুজ খাওয়া ঠিক নয় এর ফলে পেটের রোগ দেখা দিতে পারে। 
    • তরমুজ বা তরমুজের শরবত একসাথে বেশি খাওয়া উচিত নয় এতে পাচন ক্রিয়ায় গোলমাল হতে পারে। 
  • তেতুলের ব্যবহারে ঘরোয়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

    তেঁতুল আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। হিন্দিতে একে বলা হয় ইমলি। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রতে একে জমদুতিকা বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এটিএমন একটি ফল যা বায়ুমারি বিরেচক, পাচক, জ্বরনাশক, শীতলতা প্রদানকারী এবং এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। এটি স্বভাবগত ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যালকোহলজনিত মাদত্মত্ততা, ধুতুরার বিষাক্ততা, পিত্তজনিত বমন, জ্বরজনিত বিকার ও কলেরা রোগেও দারুণভাবে উপকার করে থাকে। এর কচি পাতা ও ফুল তরকারি রূপে ব্যবহার করা হয়।

     গবেষণায় দেখা গেছে যে পাকা তেতুলের শাঁস লু লাগলে, অতিরিক্ত গরমে, সূর্য তাপে, পৈতিক জ্বর,  মাদক দ্রব্যের উত্মত্ততা, ধুতুরা বিষ, বমন প্রভৃতি সমস্যায় উপকার করে ।

    শুধু শুধু তেতুল নয় তেতুলের পাতা ফুল ও বীজ ভেষজ ঔষধ রূপে ব্যবহার করা হয়। তেঁতুল পিত্ত নাশক। খাদ্য হজম করায় ও ক্ষুধার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যাদের কাশি আছে তাদের পক্ষে তেঁতুল ক্ষতিকারক ।

    তেতুলের ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসা 

    পুষ্টির জন্য 

    তেতুলের বীজ শুকিয়ে ওপরের শক্ত খোলা ছাড়িয়ে ভিতরের শাঁস পিষে নিন ব গুড়ো করে নিন। প্রতিদিন দু গ্রাম পরিমাণে ওই বীজ চূর্ণ গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ধাতু পুষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, স্বপ্নদোষ হলে তা নিবারণে এটি ভালো কাজ দেয়। 

    প্রদরে 

    তেতুলের বীজ জলে ভিজিয়ে বাইরে শক্ত খোলা ফেলে দিয়ে ভিতরের শ্বাস গুলিকে পিষে বা গুড়ো করে নিন। এরপর এই বীজ চূর্ণ এর পরিমাণের দ্বিগুণ পরিমাণে ভালো ঘি মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর অল্প আঁচ দিয়ে এই মিশ্রণটি গরম করতে হবে। তারপরে এর সাথে পরিমান মত চিনি মিশিয়ে কাঁচের সিসিতে ভরে রাখুন। প্রতিদিন সকালে ৬ গ্রাম ও সন্ধ্যায় ৬ গ্রাম পরিমাণে দুধের সঙ্গে বা সাধারণভাবে খেলেও খুবই উপকার হবে। 

    ক্ষত 

    তেতুলের ফুল ভালো করে বেটে তার রস বার করে ক্ষতস্থানের জায়গায় প্রলেপ দিলে ক্ষত আরোগ্য হয়। 

    বিষাক্ত ক্ষত 

    ক্ষত বিষাক্ত বা ক্ষতিকারক হলে তেতুলের পাঁচগ্রাম ফুল পিষে তাতে চিনি মিশিয়ে শরবত করে খেতে হবে। এবং সঙ্গে তেঁতুলের ফুলের রস ক্ষতস্থানে লাগাতে হবে। এতে ক্ষত আরোগ্য হবে ।

    নেশা ও বিষনাশে 

    অধিক নেশায় অথবা বিষ কাটানোর জন্য তেঁতুলের পাতা খুবই উপকারী হয়ে থাকে। 

    ধুতুরার বিষ 

    পাকা তেঁতুলের চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম বীজ ৪৫০ মিলি এর পরিমাণে জলে তিন থেকে চার ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ওপরের শক্ত খোসা ছাড়িয়ে ভিতরের শ্বাসগুলিকে পিষে নিতে হবে। এরপর এর সঙ্গে পরিমাণ মতো চিনি মিশিয়ে খেলে ধুতুরার বিষ নষ্ট হয়। 

    বিছার দংশনে 

    বিছার হুল ফোটালে তেতুলের বীজ অত্যন্ত উপকারী। প্রথমে তেতুলের বীজ জলে ভিজিয়ে উপরের শক্ত খোসা নরম হলে তা ছাড়িয়ে শ্বাসগুলিকে বার করে সংগ্রহ করে রাখতে হবে। পরে ওই বীজ ঘিয়ে ভেজে দংশন স্থানে লাগালে বীজ বিষ শোষণ করতে শুরু করে তখন জ্বালা যন্ত্রণা ক্রমশ কমতে থাকবে। 

    গরম বা লু লাগলে 

    অধিক গরমে যখন পিপাসা পায়, বমি ভাব আসে,  তেতুল পাতার শরবত করে খাওয়ালে গরম জনিত সব উপসর্গ দূর হয়। যারা গরমের জন্য প্রায়ই কষ্ট পান তারা যদি এক মাস যাবত তেতুল পাতার শরবত খায় অবশ্য উপকার পাবে ।

    মাথা ঘোরা 

    যাদের মাথা ঘোরা রোগ আছে তারা পাকা তেঁতুলের চাটনি খেলে যথেষ্ট উপকার পাবেন।

  • তাল এর আয়ুর্বেদিক উপকারিতা

    তাল আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। গ্রামাঞ্চলে রাস্তার ধারে কিংবা পুষ্করিনির পাড়ে  তালগাছ দেখা গিয়ে থাকে। পাকা তালের নরম শাঁস থেকে বিভিন্ন রকমের পিঠে ও পায়েস তৈরি হয়। যা স্বাদে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং প্রত্যেকেই খুব পছন্দ করে থাকেন। তাল গাছের মিষ্টি রস রোগ প্রতিরোধে খুবই উপকারী হয়ে থাকে। এই রস থেকে তৈরি হয় তালমিছরি।

    তাল একটি ভারতীয় ফল। আমাদের কাছে তাল পরিচিত হলেও আমরা অনেকেই তালের আয়ুর্বেদিক গুনাগুন সম্পর্কে জানি না। সেই প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এর ব্যবহার এর বর্ণনা পাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে অত্যন্ত শীতল মজ্জাবর্ধক, কামোদ্দীপক, কৃমিনাশক ও বিষনাশক বলা হয়েছে।

    তাল পিত্তজনিত হাত-পা জ্বলন, পিপাসা, কাজকর্মে অনিচ্ছা, বাত রোগ ও বৃক্ক রোগে খুবই উপকার করে থাকে।

    কাঁচা তালের শাঁস খুবই স্নিগ্ধ স্বাদযুক্ত ও মলরোধক। তালকে বলকারক, শীতল, ধাতু-বর্ধক, মাংস উৎপাদনকারী বলে মনে করা হয়ে থাকে। তাল শরীরের রক্ত উৎপাদন করতে সাহায্য করে থাকে। বাত, স্বাস, রক্তপিত্ত, জ্বলন, ক্ষত ও রক্তের দোষ দূর করে। 

    তাল এর নরম শাঁস জলে গুলে শরবত তৈরি করে খেলে পিত্ত নাশ করে, শুক্র বৃদ্ধি করে ও স্ত্রীলোকেদের স্তনে দুধ আনে। শুকনো কাশিতে তাল খুবই উপকারী। তাল গাছের মিষ্টি রস অনেকেই খুবই পছন্দ করেন। এই রস শীতকারি, উত্তেজক, শ্লেষ্মা রোধী এবং শোথকারক। নিয়মিতভাবে যদি তালের মিষ্টি রস পান করলে তা বিরেচকের ন্যায় কাজ করে থাকে। তালের রস থেকে তৈরি গুড় বিষ না করে থাকে।

    তালের ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসা 

    উপদংশ রোগে

    অন্ডকোষের এবং শরীরের করো স্থানে উপসংশ হলে তালগাছের কচি পাতা বেটে সেই স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।

    মেদ বৃদ্ধি

    মেদ রোগে অধিক মোটা হয়ে গেলে তাল গাছের কচি পাতা পিষে তাল পাতার রস নিয়মিত সেবন করলে মেদ বৃদ্ধি রোগে উপকার পাওয়া যায়।

    জালোদর 

    জলোদর রোগে রোগীর মূত্রাশয়ে সমস্যা দেখা দেয়। মূত্রাশয়ের কাজ ঠিকমতো হয় না। এমন অবস্থায় তালের মিষ্টি রস নিয়মিত সেবন করলে জলোদর রোগে খুবই উপকার পাওয়া যায়। রোগীর মূত্রাশয়ের কার্যকারিতা স্বাভাবিক করে থাকে।

    চর্মরোগ

    পাকা তালের শাঁস হালকা জলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে মাখলে কিংবা চর্মরোগের স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

    উন্মাদ

    তালের মিষ্টি রস নিয়মিত সেবন করলে উন্মাদ রোগে অত্যন্ত উপকারী।

    বুক জ্বালা

    পেতে অত্যাধিক গ্যাস হলে বুক জ্বালা যন্ত্রণা করলে 

    হেঁচকি

    তাল শাঁস থেকে জল বার করে খেলে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়।

  • টমেটো: একটি পুষ্টিকর ফল

    টম্যাটো এর উজ্জ্বল লাল রং, মসৃণ ত্বক এবং রসালো গঠন আমাদেরকে আকর্ষিত করে থাকে। কাকা টমেটো সরাসরি খাওয়া যায় আবার রান্নাঘরের সবচেয়ে পরিচিত সবজিগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম সবজি হলো টমেটো। উদ্ভিদবিজ্ঞানে টমেটো ফলের তালিকা ভুক্ত হলেও সারা পৃথিবীতে এটি সবজি হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হয়। সালাদ, স্যুপ, সস, চাটনি, তরকারি, আচার, জুস—প্রায় প্রতিটি খাদ্যতালিকায় টমেটোর উপস্থিতি এগুলিকে আরো সুস্বাদু করে তোলে।

    গরম ভাতের সঙ্গে টমেটোর চাটনি, স্যান্ডউইচে টমেটোর স্লাইস, পাস্তার সসে টমেটোর গভীর স্বাদ কিংবা সালাদের সতেজতায় ভরা স্বাদ—সব ক্ষেত্রেই টমেটো খাদ্যকে আরও সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় করে তোলে। টমেটোর টক-মিষ্টি মিশ্রিত স্বাদ জিভে জল এনে দেয়। এর রসালো অংশ মুখে দিলেই এক ধরনের সতেজ অনুভূতি সৃষ্টি হয়, যা ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে।

    কিন্তু টমেটোর আসল মূল্য শুধু স্বাদে নয়; এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

    টমেটোর পরিচয়

    টমেটো এর বৈজ্ঞানিক নাম হল Solanum lycopersicum। এটি Solanaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি ফল বা সবজি।

    টমেটোর উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ আমেরিকা হলেও পরে এটি মেক্সিকো হয়ে ইউরোপে পৌঁছায় এবং ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম টমেটো উৎপাদনকরি দেশগুলি হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিশর। পাকা টমেটোর উজ্জ্বল লাল রং আমাদের চোখকে আকৃষ্ট করে, তার সঙ্গে এর টক ও মিষ্টির মিশ্রিত স্বাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং জিভকে আনন্দ দেয়। যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যে পরিণত করেছে।

    টমেটোর পুষ্টিগুণ

    টমেটো তে জলীয় অংশ সব থেকে বেশি, তাই এটি  হাইড্রেশন দেয় ও শরীর ঠান্ডা রাখে। USDA এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টাটকা টমেটোতে প্রায় যে পরিমাণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় এবং তা দৈনিক চাহিদার কতটা পূরণ করতে পারে তালিকা দেয়া হলো। 

    উপাদান পরিমাণ

    টমেটো তে শতকরা 94 ভাগই জল, তাই এতে প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম থাকে

    • কার্বোহাইড্রেট : প্রায় 3.9 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 1%)
    • খাদ্যআঁশ (ফাইবার) :  প্রায় 1.2 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার পূরণ: 4%)
    • প্রোটিন : প্রায় 0.9 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 1%)
    • ফ্যাট বা চর্বি : প্রায় 0.2 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 0.26%
    • ক্যালরি: মাত্র 18 কিলোক্যালরি। 

    ভিটামিন ও খনিজ উপাদান 

    • ভিটামিন C : প্রায় 13.7 মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 15%)
    • ভিটামিন K :  প্রায় 7.9 মাইক্রোগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 7%)
    • পটাশিয়াম :  প্রায় 237 মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 5%)
    • ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন) : প্রায় 0.08 মিলিগ্রাম 
    • (দৈনিক চাহিদার প্রায় 5%)
    • ভিটামিন A (বিটা-ক্যারোটিন) : প্রায় 42 মাইক্রোগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 5%)
    • ভিটামিন B9 (ফোলেট) : প্রায় 15 মাইক্রোগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 4%)
    • ম্যাগনেশিয়াম : প্রায় 11 মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 3%)
    • ফসফরাস : প্রায় 24 মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 2%)
    • আয়রন (লোহা) : প্রায় 0.27 মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 1.5%)
    • ক্যালসিয়াম : প্রায় 10 মিলিগ্রাম (দৈনিক চাহিদার প্রায় 1%)

    বিশেষ জৈব যৌগ

    টমেটোর মধ্যে  যে সমস্ত জৈব যৌগ থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রধান ও বিশেষ জৈব যৌগটি হলো লাইকোপেন । এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এবং এটি ক্যারোটিনয়েড গোত্রের যৌগ, যার জন্য পাকা টমেটোর রং উজ্জ্বল লাল।

     এছাড়াও টমেটোতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ ও প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে। 

    ক্যারোটিনয়েডস 

    টমেটোতে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো এই গ্রুপের উপাদানগুলো

    লাইকোপিন : 

         এটি টমেটোর মধ্যে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রধান জৈব যৌগ। যা পাকা টমেটোর গাঢ় লাল রঙের জন্য দায়ী। এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত কার্যকরী। কিন্তু একটি মজার বিষয় হলো, কাঁচা টমেটোর চেয়ে রান্না করা বা প্রসেসড টমেটোতে থাকা লাইকোপিন শরীর খুব সহজে বেশি শোষণ করতে পারে। 

    বিটা-ক্যারোটিন : 

        এটি শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে থাকে, যা আমদের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

    লিউটিন এবং জেক্সানথিন :

    এই যৌগগুলো চোখের রেটিনাকে ভালো রাখে। 

    জৈব অ্যাসিড 

    টমেটোর চমৎকার টক-মিষ্টি স্বাদের পেছনে দুটি জৈব অ্যাসিড প্রধান ভূমিকা পালন করে 

    সাইট্রিক অ্যাসিড :

    এটি টমেটোর মধ্যে থাকা প্রধান অ্যাসিড, যা টমেটোকে অম্লীয় বা টক স্বাদ প্রদান করে।

    ম্যালিক অ্যাসিড :

    সাইট্রিক অ্যাসিডের পাশাপাশি ম্যালিক অ্যাসিড ও টমেটোর স্বাদ নিয়ন্ত্রণে  ভূমিকা রাখে। 

    ফেনোলিক যৌগ ও ফ্ল্যাভোনয়েড 

    এগুলো উদ্ভিদের সেকেন্ডারি মেটাবোলাইট যা আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে।

    কোয়েরসেটিন ও কেমফেরল : 

        এই ফ্ল্যাভোনয়েডগুলো প্রদাহনাশক হয়ে থাকে, এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

    নারিনজেনিন : 

       এটি সাধারণত টমেটোর খোসায় পাওয়া যায়, যা রক্তনালীর প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

    ক্যাফেইক অ্যাসিড ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড:

    ক্যাফেইক অ্যাসিড ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি ফেনোলিক অ্যাসিড। 

    গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড 

    টোমাটিন : 

        কাঁচা বা সবুজ টমেটো এবং টমেটো গাছের পাতায় টোমাটিন বেশি থাকে। এটি উদ্ভিদের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক উপাদান যা ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করে। মানুষের জন্যও এটি অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও ইমিউন বুস্টার হিসেবে কাজ করে। টমেটো পাকার সাথে সাথে এর পরিমাণ ক্রমশ কমে যায়। 

  • জলপাই এবং জলপাই তেলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

    জলপাই একটি পুষ্টিকর ফল। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী খাদ্য। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর চর্বি , ভিটামিন E, পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং বিশেষ জৈব যৌগ থাকে যা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।  কয়েক দশকে বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে দৈনন্দিন ব্যবহারে নিয়মিত জলপাই এবং বিশেষ করে উৎকৃষ্ট মানের জলপাই তেল গ্রহণ হৃদ্‌রোগ, প্রদাহজনিত রোগ এবং কিছু দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য জলপাই

    জলপাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলোর একটি হলো হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষা।

     বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হৃদরোগের প্রধান কারণগুলি হল অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, স্থূলতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। জলপাইয়ে মধ্যে থাকা ওলেইক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য উপকারিতা

    ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরলের অক্সিডেশন কমায়, রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, প্রদাহজনিত ক্ষতি কমায়, রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, এবং হৃদ্‌পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম সমর্থন করে।

    জলপাইয়ের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

    হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা

    জলপাই এর মধ্যে থাকা ওলিক অ্যাসিড  হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা করে থাকে। এটি রক্তনালীর প্রদাহ কমায়, ক্ষতিকারক এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’-এর মাত্রা কমায়, পাশাপাশি এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’-এর মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ধমনী ব্লক হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম হয় এবং হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।

    পরিপাকতন্ত্র উন্নত করা

    জলপাই এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে। এই ফাইবার অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং পুরনো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।

    হাড়ের মজবুতি (Bone Health)

    গবেষণায় দেখা গেছে যে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত জলপাই এবং এর তেল ব্যবহার করেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব খুব ভালো হয়ে থাকে। জলপাইতে পাওয়া উদ্ভিদ যৌগগুলো হাড় দুর্বল হওয়া রোধ করে হাড় কে আরো মজবুত করে তোলে এবং অস্টিওপোরোসিস-এর মতো রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

    ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা

    জলপাই এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং এ-থাকে। ভিটামিন ই ত্বকের কোষগুলোকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, যার ফলে সহজে ত্বকে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়ে না। এর মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।

    গুরুতর রোগ প্রতিরোধে জলপাইয়ের ভূমিকা

    ক্যান্সার প্রতিরোধ

    পৃথিবীর অন্যান্য অংশের তুলনায় ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে ক্যান্সারের হার অনেক কম এবং এমন হওয়ার প্রধান কারণ হল জলপাইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার যা বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন। জলপাইতে উপস্থিত ওলিওক্যানথাল ( Oleiccanthal ) নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুস্থ কোষের কোনরকম ক্ষতি না করেই ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এটি বিশেষ করে স্তন এবং অন্ত্রের (কোলন) ক্যান্সারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর।

    টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

    জলপাইয়ের তেল শরীরের মধ্যে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি খাওয়ার পর হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া কে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় জলপাই কিংবা জলপাই এর তেল অন্তর্ভুক্ত করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

    আলঝেইমার ও মানসিক স্বাস্থ্য 

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকেরই স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায় বা আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হয়। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া বা আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়া একটি বড় সমস্যা। জলপাইয়ের তেলে থাকা ফেনোলিক যৌগগুলো মস্তিষ্কের কোষে যে সমস্ত ক্ষতিকারক প্লাক (Beta-amyloid plaques) জমা হয় তা অপসারণ করতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রেখে মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে তোলে।

    দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও বাত 

    হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের মূল কারণ হিসাবে ক্রনিক ইনফ্লেমেশন বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহকে ধরা হয়। জলপাই এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ সৃষ্টিকারী জিন ও প্রোটিন গুলিকে বাধা দেয়। যা জয়েন্টের ব্যথা এবং বাতের ব্যথায় ওষুধের মতো কাজ করে থাকে।