তাল এর আয়ুর্বেদিক উপকারিতা

তাল আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। গ্রামাঞ্চলে রাস্তার ধারে কিংবা পুষ্করিনির পাড়ে  তালগাছ দেখা গিয়ে থাকে। পাকা তালের নরম শাঁস থেকে বিভিন্ন রকমের পিঠে ও পায়েস তৈরি হয়। যা স্বাদে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং প্রত্যেকেই খুব পছন্দ করে থাকেন। তাল গাছের মিষ্টি রস রোগ প্রতিরোধে খুবই উপকারী হয়ে থাকে। এই রস থেকে তৈরি হয় তালমিছরি।

তাল একটি ভারতীয় ফল। আমাদের কাছে তাল পরিচিত হলেও আমরা অনেকেই তালের আয়ুর্বেদিক গুনাগুন সম্পর্কে জানি না। সেই প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এর ব্যবহার এর বর্ণনা পাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে অত্যন্ত শীতল মজ্জাবর্ধক, কামোদ্দীপক, কৃমিনাশক ও বিষনাশক বলা হয়েছে।

তাল পিত্তজনিত হাত-পা জ্বলন, পিপাসা, কাজকর্মে অনিচ্ছা, বাত রোগ ও বৃক্ক রোগে খুবই উপকার করে থাকে।

কাঁচা তালের শাঁস খুবই স্নিগ্ধ স্বাদযুক্ত ও মলরোধক। তালকে বলকারক, শীতল, ধাতু-বর্ধক, মাংস উৎপাদনকারী বলে মনে করা হয়ে থাকে। তাল শরীরের রক্ত উৎপাদন করতে সাহায্য করে থাকে। বাত, স্বাস, রক্তপিত্ত, জ্বলন, ক্ষত ও রক্তের দোষ দূর করে। 

তাল এর নরম শাঁস জলে গুলে শরবত তৈরি করে খেলে পিত্ত নাশ করে, শুক্র বৃদ্ধি করে ও স্ত্রীলোকেদের স্তনে দুধ আনে। শুকনো কাশিতে তাল খুবই উপকারী। তাল গাছের মিষ্টি রস অনেকেই খুবই পছন্দ করেন। এই রস শীতকারি, উত্তেজক, শ্লেষ্মা রোধী এবং শোথকারক। নিয়মিতভাবে যদি তালের মিষ্টি রস পান করলে তা বিরেচকের ন্যায় কাজ করে থাকে। তালের রস থেকে তৈরি গুড় বিষ না করে থাকে।

তালের ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসা 

উপদংশ রোগে

অন্ডকোষের এবং শরীরের করো স্থানে উপসংশ হলে তালগাছের কচি পাতা বেটে সেই স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।

মেদ বৃদ্ধি

মেদ রোগে অধিক মোটা হয়ে গেলে তাল গাছের কচি পাতা পিষে তাল পাতার রস নিয়মিত সেবন করলে মেদ বৃদ্ধি রোগে উপকার পাওয়া যায়।

জালোদর 

জলোদর রোগে রোগীর মূত্রাশয়ে সমস্যা দেখা দেয়। মূত্রাশয়ের কাজ ঠিকমতো হয় না। এমন অবস্থায় তালের মিষ্টি রস নিয়মিত সেবন করলে জলোদর রোগে খুবই উপকার পাওয়া যায়। রোগীর মূত্রাশয়ের কার্যকারিতা স্বাভাবিক করে থাকে।

চর্মরোগ

পাকা তালের শাঁস হালকা জলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে মাখলে কিংবা চর্মরোগের স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

উন্মাদ

তালের মিষ্টি রস নিয়মিত সেবন করলে উন্মাদ রোগে অত্যন্ত উপকারী।

বুক জ্বালা

পেতে অত্যাধিক গ্যাস হলে বুক জ্বালা যন্ত্রণা করলে 

হেঁচকি

তাল শাঁস থেকে জল বার করে খেলে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়।

Leave a Comment