তেতুলের ব্যবহারে ঘরোয়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

Written by

in

তেঁতুল আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। হিন্দিতে একে বলা হয় ইমলি। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রতে একে জমদুতিকা বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এটিএমন একটি ফল যা বায়ুমারি বিরেচক, পাচক, জ্বরনাশক, শীতলতা প্রদানকারী এবং এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। এটি স্বভাবগত ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যালকোহলজনিত মাদত্মত্ততা, ধুতুরার বিষাক্ততা, পিত্তজনিত বমন, জ্বরজনিত বিকার ও কলেরা রোগেও দারুণভাবে উপকার করে থাকে। এর কচি পাতা ও ফুল তরকারি রূপে ব্যবহার করা হয়।

 গবেষণায় দেখা গেছে যে পাকা তেতুলের শাঁস লু লাগলে, অতিরিক্ত গরমে, সূর্য তাপে, পৈতিক জ্বর,  মাদক দ্রব্যের উত্মত্ততা, ধুতুরা বিষ, বমন প্রভৃতি সমস্যায় উপকার করে ।

শুধু শুধু তেতুল নয় তেতুলের পাতা ফুল ও বীজ ভেষজ ঔষধ রূপে ব্যবহার করা হয়। তেঁতুল পিত্ত নাশক। খাদ্য হজম করায় ও ক্ষুধার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যাদের কাশি আছে তাদের পক্ষে তেঁতুল ক্ষতিকারক ।

তেতুলের ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসা 

পুষ্টির জন্য 

তেতুলের বীজ শুকিয়ে ওপরের শক্ত খোলা ছাড়িয়ে ভিতরের শাঁস পিষে নিন ব গুড়ো করে নিন। প্রতিদিন দু গ্রাম পরিমাণে ওই বীজ চূর্ণ গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ধাতু পুষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, স্বপ্নদোষ হলে তা নিবারণে এটি ভালো কাজ দেয়। 

প্রদরে 

তেতুলের বীজ জলে ভিজিয়ে বাইরে শক্ত খোলা ফেলে দিয়ে ভিতরের শ্বাস গুলিকে পিষে বা গুড়ো করে নিন। এরপর এই বীজ চূর্ণ এর পরিমাণের দ্বিগুণ পরিমাণে ভালো ঘি মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর অল্প আঁচ দিয়ে এই মিশ্রণটি গরম করতে হবে। তারপরে এর সাথে পরিমান মত চিনি মিশিয়ে কাঁচের সিসিতে ভরে রাখুন। প্রতিদিন সকালে ৬ গ্রাম ও সন্ধ্যায় ৬ গ্রাম পরিমাণে দুধের সঙ্গে বা সাধারণভাবে খেলেও খুবই উপকার হবে। 

ক্ষত 

তেতুলের ফুল ভালো করে বেটে তার রস বার করে ক্ষতস্থানের জায়গায় প্রলেপ দিলে ক্ষত আরোগ্য হয়। 

বিষাক্ত ক্ষত 

ক্ষত বিষাক্ত বা ক্ষতিকারক হলে তেতুলের পাঁচগ্রাম ফুল পিষে তাতে চিনি মিশিয়ে শরবত করে খেতে হবে। এবং সঙ্গে তেঁতুলের ফুলের রস ক্ষতস্থানে লাগাতে হবে। এতে ক্ষত আরোগ্য হবে ।

নেশা ও বিষনাশে 

অধিক নেশায় অথবা বিষ কাটানোর জন্য তেঁতুলের পাতা খুবই উপকারী হয়ে থাকে। 

ধুতুরার বিষ 

পাকা তেঁতুলের চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম বীজ ৪৫০ মিলি এর পরিমাণে জলে তিন থেকে চার ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ওপরের শক্ত খোসা ছাড়িয়ে ভিতরের শ্বাসগুলিকে পিষে নিতে হবে। এরপর এর সঙ্গে পরিমাণ মতো চিনি মিশিয়ে খেলে ধুতুরার বিষ নষ্ট হয়। 

বিছার দংশনে 

বিছার হুল ফোটালে তেতুলের বীজ অত্যন্ত উপকারী। প্রথমে তেতুলের বীজ জলে ভিজিয়ে উপরের শক্ত খোসা নরম হলে তা ছাড়িয়ে শ্বাসগুলিকে বার করে সংগ্রহ করে রাখতে হবে। পরে ওই বীজ ঘিয়ে ভেজে দংশন স্থানে লাগালে বীজ বিষ শোষণ করতে শুরু করে তখন জ্বালা যন্ত্রণা ক্রমশ কমতে থাকবে। 

গরম বা লু লাগলে 

অধিক গরমে যখন পিপাসা পায়, বমি ভাব আসে,  তেতুল পাতার শরবত করে খাওয়ালে গরম জনিত সব উপসর্গ দূর হয়। যারা গরমের জন্য প্রায়ই কষ্ট পান তারা যদি এক মাস যাবত তেতুল পাতার শরবত খায় অবশ্য উপকার পাবে ।

মাথা ঘোরা 

যাদের মাথা ঘোরা রোগ আছে তারা পাকা তেঁতুলের চাটনি খেলে যথেষ্ট উপকার পাবেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *