তরমুজ এর আয়ুর্বেদিক উপকারিতা

Written by

in

তরমুজ আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি ফল। এটি প্রধানত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে উৎপন্ন হয়। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে এর চাষ হচ্ছে। তরমুজের রস খুবই শ্বাসযুক্ত হয়ে থাকে এবং দেহের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তরমুজ পিত্তনাশ করে শরীরকে শান্ত ও শীতল করে তোলে। এটি সূর্যতাপে অত্যাধিক গরম ও লু থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। একে পাচক ও পুনর জীবনদাতা বলা হয়ে থাকে। 

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি, কার্বোহাইড্রেট, খনিজ লবণ এবং উপকারী জৈব যৌগ থাকে। 

তরমুজ পিপাসা শান্ত করতে সাহায্য করে, অনেকের মতে তরমুজ হৃদপিন্ডের শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, তরমুজের রস মিছরি বা চিনির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পিত্তের উপকার হয়। তার ফলে পেটে এসিড বা ক্ষারের উৎপত্তি হয় না।

তরমুজের ভেষজ উপকারিতা

পিত্ত রোগ 

পিত্ত দূষিত হলে বিভিন্ন রকমের রোগ দেখা দেয়। যেমন মাথার যন্ত্রণা, চোখে অন্ধকার দেখা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তরমুজের শরবত খুবই উপকারী একটি পানীয়। তরমুজের শরবত খেলে মুখরাশয়ের জ্বালা কমে এবং নিয়মিত প্রস্রাব হয়। 

হৃদপিন্ডের দুর্বলতা 

যারা দীর্ঘদিন ধরে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন কুড়ি গ্রাম তরমুজ চূর্ণ উপযুক্ত পরিমাণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করলে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতায় আশ্চর্যজনকভাবে উপকার পাওয়া যায়।

পিপাসায় 

গ্রীষ্মকালে গ্রীষ্ম প্রধান দেশের মানুষরা কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর পিপাসার্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তরমুজের রস অত্যন্ত উপকারী। তরমুজের রস পিপাসা নিবারণ করতে সাহায্য করে, দেহে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, প্রস্রাব সরল হওয়ার ফলে দেহের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর বজ্র পদার্থ প্রস্রাবের সঙ্গে বাইরে বের করে দেয়। 

সাবধানতা 

  • যাদের শ্বাসকষ্ট রোগ রয়েছে এবং যারা সর্দি কাশি রোগে ভুগছেন তাদের পক্ষে তরমুজ খাওয়া উচিত নয়। 
  • একসাথে অতিরিক্ত পরিমাণে তরমুজ খাওয়া ঠিক নয় এর ফলে পেটের রোগ দেখা দিতে পারে। 
  • তরমুজ বা তরমুজের শরবত একসাথে বেশি খাওয়া উচিত নয় এতে পাচন ক্রিয়ায় গোলমাল হতে পারে। 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *