আমরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন সময়ে আম খেয়ে থাকি কিন্তু আপনার কি জানেন? যে আম দিয়েও বিভিন্ন রোগের ঘরোয়া উপাচার করা যায়? আম কিভাবে আমাদেরকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে ?

প্রাচীন সংস্কৃতে আমকে অমৃত ফল ও বলা হয়ে থাকে । আমের মধ্যে ভিটামিন A, ভিটামিন C এবং ভিটামিন E , ভিটামিন K ইত্যাদি অধিক মাত্রায় থাকে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে শুধু ফল নয়, আমে গাছের পাতা, ছাল, আমের ছাল, বীজ এবং মুকুলও বিভিন্ন ভেষজ চিকিৎসা তে ব্যবহার করা হয় থেকে।

ভিটামিন A সমৃদ্ধ হওয়ায় আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা দৃষ্টিশক্তিহীন এবং যাদের রাতে ভালোভাবে দেখতে অসুবিধা হয় অর্থাৎ রাতকানা সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি টাটকা আমের শরবত করে খান যথেষ্ট উপকার পাবেন। আম চোখের লালচে ভাব এবং চোখের মনির অস্পষ্টতা দূর করতে সাহায্য করে।

আমে অধিক পরিমাণে ভিটামিন C থাকে যা আমাদের শরীরে শ্বেত রক্ত কণিকার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং ভিটামিন C এর অভাবজনিত যে সমস্ত রোগ দেখা যায় সেই সব রোগে খুবই উপকার দেয়। এছাড়া বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে শক্তিশালী করে।

মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতের যন্ত্রণা ও মাড়ির ব্যথায় আম খুব উপকারী। যাদের হৃদরোগ আছে তারা নিয়মিত আম খেলে খুবই উপকার পাবেন। কারণ এতে পটাশিয়ামের মতো খনিজ এর মাত্রা ও যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে যা হৃৎপিণ্ডকে সবল ও সচল রাখতে সাহায্য করে।

আমের আটি ও ছাল খুব উপকারী। যাদের পা ফাটে তারা আমের ছাল ভালোভাবে বেটে ফাটায় লাগালে উপকার পাবেন। আমের রসের সঙ্গে দই মিশিয়ে লস্যি করে খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি হয়ে থাকে। অধিক গরমে সূর্যের তাপ জনিত রোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য আম পুড়িয়ে আম পোড়ার শরবত করে খেলে সানস্ট্রোক হয় না ।

কানের রোগ

টাটকা সবুজ আম পাতা কে বেটে তার রসটুকু আলাদা করে নিয়ে যদি কানে দেওয়া যায় তা কানের রোগ দূর করতে সাহায্য করে।

ত্বকের পরিচর্যা

ভিটামিন A, C ও E ত্বকের কোষকে পুষ্টি দেয়। ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। বছরে তিন চার মাস যদি নিয়মিত পরিমাণ মতো আম খাওয়া যায় ত্বকের সাধারণ সৌন্দর্য ফিরে আসে। নিয়মিতভাবে যদি আমের শরবত খাওয়া যায় তা ত্বকের খসখসে শুকনো ভাব দূর করে।

ব্লাড সুগার

ব্লাড সুগার দেখা দিলে আম ও জামের রস সমান মাত্রায় নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সেবন করলে দশ থেকে বারো দিনের মধ্যে সুগারের মাত্রা কমে যায়। তবে এই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে করতে হবে।

কৃমি রোগ

আম টুকরো টুকরো করে কেটে খেলে কৃমিনাশ হয়।

দুর্বলতায়

পুষ্টিদায়ক উপাদান হিসেবে আমকে প্রধান স্থান দেওয়া যায়। যাদের দুর্বল ও রোগা দেহ তারা নিয়মিত আম সেবন করলে শরীর সবল ও সতেজ হয়ে থাকে।

লিঙ্গ জনিত দোষে

লিঙ্গে যদি কোন রকম দোষ দেখা দেয় বা যৌন রোগ দেখা দিলে আমের পাতার সঙ্গে হলুদ বেটে ওই মিশ্রণ এর প্রলেপ লিঙ্গে মাখালে উপশম হয়।

নপুংসকতায়

আমের রস 7 থেকে 8 ফোঁটা জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে তা নপুংসতা দূর করতে সাহায্য করে। আম ও দুধের শরবত করে খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই এটি খুবই শক্তিবর্ধক ও বলোকারোক।

হৃদপিন্ডের দুর্বলতায়

পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আমের রস এর সঙ্গে এক চা চামচ আদার রস মিশিয়ে পান করলে হৃৎপিণ্ড সতেজ ও সবল হয়।

অজীর্ণ রোগে

আমের রস পান করলে অজীর্ণতা দূর হয়। হজমশক্তি উন্নত করে। আমের মধ্যে থাকা খাদ্য আঁশ বা ফাইবার খাবার হজম করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

আমে ফলেট ও কিছু পরিমাণ লৌহ উপাদান থাকে, যা রক্ত তৈরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্ভাব্য ভূমিকা

আমের মধ্যে থাকা ম্যাঙ্গিফেরিন, কোয়ারসেটিন ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটা যদিও ক্যান্সারের চিকিৎসা নয় তবুও এই রোগে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারী।

আমের পাতা ও বীজের আয়ুর্বেদিক ব্যবহার

আমপাতা

আয়ুর্বেদে আমপাতার নির্যাস বিভিন্ন ভেষজ ঔষধ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। কিছু গবেষণা তে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহায়ক প্রভাব নিয়ে আলোচিত হয়েছে।

আমের বীজ

আমের বীজের শক্ত অংশের ভিতরের শাঁস শুকিয়ে গুড়ো করে ঐতিহ্যগত ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু অঞ্চলে এটি হজমজনিত সমস্যায় লোকজ চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তবে এই সমস্ত উপাচার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত নয়।