জাম এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঘরোয়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

জামের অনেক প্রকার প্রজাতি পাওয়া যায়। জাম আমাদের কাছে খুবই পছন্দ করে একটি ফল। এটি গ্রীষ্ম প্রধান একটি ফল। জাম পাচক এবং অগ্নাশয়ের যথেষ্ট উপকার করে। যকৃত, প্লীহা ও আমাশয় রোগে জাম বিশেষ ভাবে উপকার করে থাকে। নিয়মিত জাম খেলে চুলের অকাল পাক্কতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এই ফল খালি পেটে খেলে পেট ব্যথা করে। আবার অন্যদিকে এই ফল খালি পেটে খেলে মূত্রের পরিমাণ বেড়ে যায় ফলে শরীরের দূষিত পদার্থ সমূহ মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। অন্ডকোষের দুর্বলতা ও শুক্রমেহু রোগীর ক্ষেত্রে এই ফলটি বিশেষ উপযোগী। যারা বহুমূত্র রোগী তাদের জাম খাওয়া বিশেষ করে দরকার। জাম পিত্তকে শান্ত করে। জাম সেবন করলে মানুষের বীর্য ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আবার এই ফলকে আমরা আমের শোধক বলতেও পারি। আম খাওয়ার পর যদি কয়েকটি জাম খাওয়া যায় তবে অতি শীঘ্রই আম হজম হয়। 

      এই গাছের ছাল, ফল ও ফলের বীজ সবকিছুই ভেষজ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এই গাছের ছাল অত্যাধিক স্তম্ভক। গলার ক্ষতে, ব্রংকাইটিস,  হাঁপানি, ব্রণ, সেপটিক ও কলেরা রোগের পক্ষেও এই ফল খুবই উপকারী। রক্ত শোধনের ক্ষেত্রে এটি আশ্চর্যজনকভাবে উপকার করে থাকে। 

      ছাগলের দুধের সঙ্গে জাম গাছের ছালের টাটকা রস মিশিয়ে খেলে অতিসার রোগে উপকার হয়। জামের বীজ অর্থাৎ দানা ডায়াবেটিস রোগী উপকার করে। জামের রস পান করলে হাত পায়ের জ্বালা কমে। পাশ্চাত্য দেশের ডাক্তাররা জাম থেকে ডায়াবেটিস রোগের ঔষধ প্রস্তুত করেছেন ।।

মধুমেহ (ডায়াবেটিস) 

এই রোগে আক্রান্ত হলে জাম গাছের সবুজ কচি পাতা বেটে তা জলে মিশিয়ে দিনে দুইবার করে পান করলে এই রোগের প্রকোপ কমে যাবে।

ঘামাচি 

গরমকালে আমাদের অনেকের গায়ে ঘামাচিতে ভরে যায়, খুবই অস্বস্তি হয়। এই রোগ নিরাময়ে জামের বীজ অত্যন্ত উপকারী। প্রথমে জামের বীজ গুলি শুকনো করে গুড়ো করে নিতে হবে। এই বীজ গুড়োর সঙ্গে সোডা মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ঘামাচির উপরে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। 

ম্যালেরিয়া 

এই রোগ আমাদের দেশে ব্যাপক পরিমাণে হয়ে থাকে। এই রোগে জাম গাছের ছাল অত্যন্ত উপকারী । প্রথমে জাম গাছের উপরের ছালের অংশটিকে ভালো করে টুকরো টুকরো করে কাটতে হবে। এই টুকরো অংশগুলির সঙ্গে গুড় মেশাতে হবে। এই মিশ্রণ ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কে খাওয়াতে হবে। অথবা আরও একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপাচার করা যেতে পারে 

     জাম গাছের ছাল ভালো করে গুড়ো করে কিংবা বেটে জলের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা গরম করে সেবন করতে হবে। এতে প্রথমে জ্বর বাড়তে পারে। কিন্তু এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ধীরে ধীরে ম্যালেরিয়া রোগ দূর হয়ে যাবে। 

স্বপ্নদোষ ও শীঘ্রপতন 

যে সকল যুবকের প্রস্রাব ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না বা গতি কমে গেছে রাতে নিদ্রায় বিভিন্ন স্বপ্ন দেখে কিংবা যৌবনে পদার্পণে স্বপ্নদোষের জন্য বীর্য নষ্ট হচ্ছে অথবা কুচিন্তায়, অশ্লীল চিত্র বা নারীর সংস্পর্শে বীর্যহীনতায় ভুগছে তাদের কাছে এই ফলের প্রয়োজনীয়তা বেশি। জামের বীজ চূর্ণ করে ৩ গ্রাম পরিমাণে জলের সঙ্গে মিশিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় খেতে হবে। যে সকল যুবকের বীর্য তরল হয়ে গেছে, লিঙ্গের দৃঢ়তা ও উত্তেজনা ঠিকমতো হয় না তাদের ক্ষেত্রে জামের বীজ চূর্ণ ও দুধ ভালো করে মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর  আগে পান করতে হবে। এতে যারা বীর্যহীনতায় দীর্ঘদিন ভুগছেন, তারা পুনরায় হারানো বল, বীর্য ফিরে পাবেন। বীর্য ঘন হবে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 

প্রদর রোগ 

জাম গাছের ছাল কেটে টুকরো করে শুকনো করে তারপর তার গুঁড়ো করে অথবা হালকা জলে পিষে ১০ গ্রাম পরিমাণ গরুর দুধের সঙ্গে খাওয়ালে প্রদর রোগে অত্যন্ত উপকার হয়ে থাকে। 

জুতো পড়ার জন্য পায়ে ঘা 

অনেক সময় নতুন জুতো পড়লে পায়ে ফুচকা হয় এবং তা থেকে খাওয়া হয় তার ফলে হাঁটাচলাতে খুব কষ্ট হয়। এই অবস্থায় জামের বীজ ভালো করে পিষে ওই ক্ষতস্থানে লাগালে কত ভালো হয়।।

Leave a Comment