ভারতীয় শাস্ত্রে নারকেল অতি পবিত্র একটি ফল। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ, বিভিন্ন উৎসবে এবং শুভ কাজে নারকেল কে পবিত্র ফল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি প্রধানত উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে সমুদ্রের নিকটস্থ অঞ্চলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফলে থাকে।
দেহের পুষ্টি সাধনে নারকেলের তুলনা নেই। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর বহু গুণের বর্ণনা পাওয়া যায়। নারকেলের থেকে বিশ্বের সর্বোত্তম বনস্পতি তেল পাওয়া যায়। সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট, খাদ্য তেল হিসেবে, কৃত্রিম মাখন তৈরিতে, সিন্থেটিক রাবার তৈরিতে, গ্লিসারিন হাইড্রোলিক দ্রবণ ও প্লাস্টিমাইজার ইত্যাদিতে নারকেল তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গরমকালে এটি একটি আনন্দদায়ক পেয়।
নারকেল তেল অম্ল পিত্ত এবং শরীরের নানা ধরনের ব্যথার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে আয়ুর্বেদিক ঔষধে বৃহৎ নারকেল খন্ড নামে এর প্রচলন আছে দৈহিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে নারকেল এর উপযোগিতা রয়েছে এর আশ্চর্য গুণাবলী এর জন্য এটি সর্বক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যাদের শরীর অত্যন্ত গরম, বদহজম, রক্ত বিকারের শিকার হয়েছেন যারা তারা কাঁচা নারকেল খেলে খুবই উপকার পাবেন। শুধু তাই নয় এটি বীর্য ধারণের ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
নারকেলের জল আমাদের পিপাসা দূর করতে সাহায্য করে থাকে, খুব হালকা হওয়ার ফলে পেটের রোগীদের পক্ষে এটি খুবই উপকারী। এটি বীর্যবর্ধক খুদা বৃদ্ধিকারক এবং পিত্তনাশক। নারকেলের তেল মাথায় মাখলে চুল ঘন হয় লম্বা হয় এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে নারকেলের তেল এর মধ্যে কডলিভার তেলের সমান গুন আছে।
নারকেল এর ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসা
শিশুর সুন্দর চোখ ও মুখ
কোন গর্ভবতী মহিলা নারকেল ও মিছরি নিয়মিত খেলে গর্ভের শিশুর চোখ খুব সুন্দর ও বড় হয়।
শিশুরা দুধ তুললে
অনেক শিশু দুধ তুলে থাকে, এক্ষেত্রে ওই শিশুটিকে এক চা চামচ নারকেলের জল পান করালে শিশুর দুধ তোলা বন্ধ হয়ে যাবে।
ত্বকের কালো দাগ
কোনরকম কঠিন রোগের কারণে কিংবা অনিদ্রা দেখা দিলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ দেখা দেয়। এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে তুলসী পাতার রস ও কাঁচা নারকেল পিষে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। ওই মিশ্রণটি দেহের কালো অংশের প্রলেপ দিলে কালো দাগ দূর হয়ে থাকে।
খুশকি
অনেকের মাথায় খুশকি হয়ে থাকে যার কারণে অস্বস্তিবোধ হয়। মাথায় খুশকির জন্য সবার আগে পেট ঠিক রাখতে হবে। এবং নারকেল তেল মাথায় মাখলে খুশকির হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
কৃমি
কৃমি হলে সকালে খালি পেটে নারকেল চিবিয়ে খেলে কৃমি নিরাময় হয়। মলের সঙ্গে কৃমি বাইরে বেরিয়ে যায়।
অনিদ্রা
বিভিন্ন কারণে অনিদ্রা রোগ দেখা দেয়। নিয়মিতভাবে কিছুদিন যাবত নারকেলের জল খেলে অনিদ্রা দূর হয়।
পুরনো কাশি
অনেক সময় বুকে সর্দি বা কফ বসে যায়। যার কারণে গলায় খুসখুসে কাশি দেখা দেয়। এই অবস্থায় নারকেল চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
মাথার যন্ত্রণা
অনেকেই মাথার যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন যা সাধারণত সর্দির জন্য হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
আধ কপালে
অনেক মানুষই এই রোগে ভুগে থাকেন। আধ কপালে মাথাব্যথা তে কপালের অর্ধেকে যন্ত্রণা হয়ে থাকে এবং কপালের অর্ধেকে কোন যন্ত্রণা থাকেনা। এক্ষেত্রে নারকেলের জল কপালে প্রলেপ দিলে যন্ত্রণা উপশম হয়ে থাকে।
শুকনো চেহারা
অনেক সময় রোগ ব্যাধি ছাড়াও চেহারা শুকনো হয়ে যায় এবং ত্বক তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে সারা শরীরে নারকেলের তেল মাখলে তেলের মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদান সমূহ ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে।
হাত পা ও ঠোঁট ফাটা
শীতকালে আমাদের হাত পা ও ঠোঁট ফেটে যায় ও ফেটে যাওয়া স্থানে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে। নিয়মিত নারকেলের তেল মাখলে হাত পা ও ঠোঁট ফাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ফাটা স্থানে নারকেল তেলের প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।
প্রসবের পর কষ্ট
অসুখ হওয়ার পর অনেক প্রস্তুতি মহিলার নানা রকম কষ্ট বা উপসর্গ দেখা দেয়। এই অবস্থায় নারকেল পিষে গুড়ের সঙ্গে খেলে অনেকাংশে কষ্ট বা উপসর্গ কম হয়।
ঠোঁট কালো হলে
অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ঠোঁট কালো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে পাতি লেবু রস সমান পরিমাণে মিশিয়ে ঠোঁটে দিলে কালো দাগ দূর হয়।
ক্ষত বা আঘাত লাগা
কোন কারনে আঘাত লাগলে বা ক্ষত হলে নারকেল তেলের সঙ্গে বোরিক পাউডার ও সামান্য হলুদ মিশিয়ে সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়।
হাজা
বেশি জল ঘাটলে বা জলের কাজ করলে পায়ের আঙুলে হাতের আঙুলে হাজার সৃষ্টি হয়। এতে হাজা এর স্থানে খুব যন্ত্রণা ও ব্যথা হয়ে থাকে, গন্ধ হয়। এক্ষেত্রে নারকেল বেটি তার রস হাজা এর স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
মোলায়েম ত্বকের জন্য
দেহের ত্বককে মোলায়েম করে রাখতে চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে মোম মিশিয়ে সেই মিশ্রণ সরা শরীরে মাখার পর হালকা গরম জলে স্নান করতে হবে। এইভাবে নিয়মিত করলে ত্বক মোলায়েম হবে।
আগুনে পোড়া
দেহের কোন অংশ পুড়ে গেলে জলের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে পুড়ে যাওয়া স্থানে লাগালে যারা যন্ত্রণা কমে। এইভাবে নিয়মিত করলে পোড়া দাগ ও মিলিয়ে যেতে পারে।