কাঁঠাল: রোগ প্রতিরোধ ও আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া চিকিৎসা

কাঁঠাল খুবই সুস্বাদু একটি ফল। যা খুবই মিষ্টি এবং সরস। সকালে খালি পেটে ২ –৩ টি কোয়া খাওয়া ভালো। হজম শক্তি ভালো হলে আরো ২–৩ টি বেশি খাওয়া বেশি খাওয়া যেতে পারে। কাঁঠালের মধ্যে অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। কাঁচা অবস্থায় কি চোর বলা হয়। এই ফল কাঁচা অবস্থাতে রান্না করে খাওয়া হয়ে থাকে। কাঁঠাল গাছের ডালে, মূল কাণ্ডে, শিকড়ে, মাটির ভেতরেও হয়ে থাকে। 

বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার দ্বারা প্রমাণ পাওয়া গেছে কাঁঠালের দানা আলুর চেয়েও বেশি পুষ্টিকর। যাদের অগ্নিমান্দ্য রোগ আছে তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো। সর্দি কাশি হলে এই ফল কফ বসিয়ে দেয় তাই সর্দি কাশির ক্ষেত্রেও কাঁঠাল খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের এই ফল খাওয়া কোনভাবেই উচিত নয় কারণ এতে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কাঁঠালের ব্যবহারে আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া চিকিৎসা

বিষাক্ত ফোড়া 

কাঁঠালের বীজ অর্থাৎ দানা কাঁচা অবস্থায় ভালো করে ঘষে কিংবা শুকনো বীজ হালকা জলে ঘষে নিয়ে তার সঙ্গে পায়রার মল মিশিয়ে গারো একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। রাত্রে ঘুমানোর আগে বিষাক্ত ফোঁড়ার উপরে সেই মিশ্রণের প্রলেপ দিতে হবে। সকাল পর্যন্ত বিষাক্ত ফোঁড়া ভালোভাবে পেকে যাবে এবং সামান্য চাপ পড়লেই ঘোড়ার ভিতরের পুঁচ বেরিয়ে যাবে। 

সর্প দংশন 

কোন ব্যক্তিকে সাপে কামড়ালে তৎক্ষণাৎ কাঁঠালের বীজ অর্থাৎ দানা আগুনে ভালো করে পুড়িয়ে নিয়ে গুঁড়ো করে জলের সঙ্গে খাওয়াতে হবে। খাওয়ার পর সাপে কামড়ানো ব্যক্তির বিশেষ প্রভাব অনেকখানি কমে যাবে। এরপরই অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে । 

যৌন রোগ 

এই রোগ পুরনো হয়ে গেলে কাঁঠালের কাঠ চূর্ণ করে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্রাম পরিমাণে নিয়মিত একমাস সেবন করলে রক্ত শুদ্ধ হবে তার ফলে যৌন রোগের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

মুখের আলসার বা ঘা:

মুখের ভিতরে আলসার কিংবা ঘা হয়ে থাকলে কাঁঠালের কষ সরাসরি ওই ক্ষতস্থানে লাগালে এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দ্রুত আলসার কিংবা ঘায়ের ক্ষত নিরাময় করে।

ত্বকের সংক্রমণ ও ডায়াবেটিস:

কাঁঠাল এর পাতায়  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড প্রচুর পরিমাণে থাকে। ১৪-১৫ গ্রাম শুকনো বা কচি কাঁঠালের পাতা ৩-৪ গ্লাস জলে ভালো করে ফুটিয়ে ক্বাথ তৈরি করুন। এই ক্বাথ দিনে ২-৩ কাপ পান করুন। এই প্রক্রিয়া নিয়মিত করলে তা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, চর্মরোগ দূর করে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।

কাশি ও হাঁপানি প্রতিরোধ:

কাঁঠাল গাছের ছালের টুকরো, চিরতা এবং সামান্য জিরে একসাথে ফুটিয়ে ক্বাথ তৈরি করে সেই ক্বাথ সেবন করলে বুকের মধ্যে জমে থাকা কফ সরল হয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও হাঁপানির কষ্ট কমে থাকে।

কাঁঠালের স্বাস্থ্য উপকারিতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

কাঁঠালের মধ্যে ভিটামিন C থাকে যা শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে শরীর বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হয়।

হৃদরোগ প্রতিরোধ

কাঁঠালের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে সাহায্য করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি

কাঁঠালের মধ্যে থাকা ফাইবার অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বল, গ্যাসের সমস্যা দুর করতে সাহায্য করে।

চোখের সুরক্ষা 

কাঁঠালের মধ্যে থাকা বিটা-ক্যারোটিন চোখের রেটিনাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। রাতকানা, বয়সজনিত দৃষ্টিক্ষয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি

কাঁঠালের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের বার্ধক্য ধীর করে। 

হাড় মজবুত করে

কাঁঠালের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

কাঁঠালের মধ্যে থাকা আয়রন ও ভিটামিন C একত্রে রক্ত তৈরির প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

কাঁঠাল গাছের বিভিন্ন অংশের ঐতিহ্যগত ব্যবহার

গ্রামীণ চিকিৎসায়: কাঁঠাল গাছের পাতা ক্ষতস্থানে, চর্মরোগে ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

লোকজ চিকিৎসায়: কাঁঠাল গাছের শিকড় ডায়রিয়া, জ্বর ইত্যাদিতে ব্যবহারের বর্ণনা রয়েছে।

কিছু আয়ুর্বেদিক প্রস্তুতিতে: কাঁঠাল গাছের ছাল ত্বকের সমস্যা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

সতর্কতা

পরিমিত পরিমাণে কাঁঠাল খাওয়া উপকারী হলেও অতিরিক্ত খেলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁঠাল খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম, কফ বৃদ্ধি, হতে পারে। আবার যাদের কিডনির গুরুতর সমস্যা আছে তাদেরকে পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। তাই তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।

Leave a Comment