এটি শীতকালে প্রচুর পরিমাণে হয়ে থাকে। অন্য সময়েও পাওয়া যায় তবে তা তুলনামূলক ভাবে কম। আমাদের ভারতবর্ষে প্রচুর পরিমাণে কমলালেবু চাষ হয়ে থাকে। ভারতের নাগপুরে প্রচুর পরিমাণে কমলালেবু চাষ হয়ে থাকে তাই একে কমলালেবুর শহর বলা হয়ে থাকে। দার্জিলিং এ চাষ হয়ে থাকা কমলালেবু খুবই উৎকৃষ্ট। কমলালেবুর রস মনকে পরিতৃপ্ত করে, প্রসন্নতা এনে দেয়। কমলালেবুর রস যে কোনো রোগীকে দেওয়া যেতে পারে। তাই কমলালেবু প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।
যাদের ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। আহারে রুচি থাকে না তারা যদি এক ভাগ কমলালেবুর রসের সঙ্গে তিন ভাগ জল মিশিয়ে খেলে খুবই উপকার পাবেন। ক্ষুধা বৃদ্ধি পাবে, আহারে রুচি আসবে।
আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া চিকিৎসা
চোখের কোণে কালো দাগ
অনেক নারী বা পুরুষের চোখের কোণে কালো দাগ পড়তে দেখা যায়। চোখের কোণের ওই কালো দাগ যুক্ত স্থানে কয়েক মাস যাবত প্রতিদিন কমলালেবুর রস লাগিয়ে রাখলে চোখের কোণের কালো দাগ দূর হয়।
বদহজম
অনেক সময় আহারের পর বদহজম হয়ে থাকে। এমনাবস্থায় কমলালেবুর রস পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
কৃমি
টাটকা কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে দুই কাপ জলে এমন ভাবে ভিজিয়ে রাখুন যাতে খোসার সমস্ত অংশ ভালোভাবে জল পেয়ে নরম হয়। এরপর ওই খোসাগুলো থেকে রস বের করে নিয়ে এর সাথে এক গ্রাম পরিমাণে হিং মেশাতে হবে। এই মিশ্রণ প্রতিদিন সকাল, দুপুর, ও সন্ধ্যা এই তিন টাইম এক চা চামচ করে খেলে কৃমি নাস হয়।
সাধারণ জ্বর
যে কোনও সাধারণ জ্বরে কমলালেবুর রস পান করলে জ্বর হ্রাস পায়। পায়খানা ও প্রস্রাব ঠিক হয়। শরীরে শক্তি ও শ্রীবৃদ্ধি হয়। এছাড়া তৃষ্ণা দূর হয়ে থাকে।
ত্বকের উপর দাগ
ত্বকের উপর যে কোনও পুরোনো দাগ তুলতে কমলালেবু চমৎকার ভাবে উপকারী। কমলালেবুর খোসা রোদে শুকিয়ে গোলাপ জলে ওই খোসা ভিজিয়ে রাখতে হবে। খোসা নরম হয়ে গেলে তা পিষে গোলাপ জলের সঙ্গে মিশ্রণ তৈরি করে ত্বকের যে স্থানে দাগ আছে ওই স্থানে কিছু দিন যাবত লাগাতে হবে। লাগালে দাগ দূর হয়।
উদর শূল
যারা এই রোগে ভুগছেন তারা প্রতিদিন যদি নিয়মিত ভাবে ২৫ মিলিঃ বা তার বেশি রস পান করে। এই রোগের হাত থেকে পরিত্রাণ পায়।
গর্ভবতী মহিলাদের রোগ
গর্ভবতী অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনো রকম উপসর্গ দেখা দিলে প্রতিদিন দুটি করে কমলালেবুর রস পান করলে তা অত্যন্ত উপকারী হয়ে থাকে। কমলালেবুর রস মধু কিংবা মিছরি সহযোগে দিনে তিন থেকে চার বার খেলে আরও ভালো হবে। এতে গর্ভবতী মহিলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং গর্ভের সন্তানের ও উপকার হয়।।
দাঁত ওঠার রোগ
শিশুদের দাঁত ওঠার সময় যেসব অসুখ হয়ে থাকে তা থেকে নিরাময় পেতে কামড়ালেবুর রস বিশেষভাবে কার্যকর। তাই প্রতিদিন শিশুটিকে একটি করে কমলালেবুর রস পান করতে দিতে হবে।
খুশকি
মাথায় খুশকি হলে কমলালেবুর খোসা শুকনো করে হামান বিস্তায় চূর্ণ করে অথবা জলের সঙ্গে বেঁটে মিশ্রণ তৈরি করুন। ওই মিশ্রণ মাথায় লাগালে খুশকি থাকে না। তবে এইভাবে এক মাস যাবত করতে হবে।
চর্মরোগ
অনেকেরই চর্মরোগ হয়ে থাকে। শরীরের যেই স্থান এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেখানে কমলালেবুর খোসা জলের সঙ্গে বেটে মিশ্রণ তৈরি করে সেই মিশ্রণ রোগাক্রান্ত স্থানে কিছুদিন প্রলেপ দিলে চর্মরোগ দূর হয়।
শিশুদের স্বাস্থ্য
শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে কমলালেবুর রস খুবই উপকারী হয়ে থাকে। নিয়মিতভাবে মিষ্টি কমলালেবুর রস খাওয়ালে শিশুদের দেহের পুষ্টি সাধন হয়
ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা
এই রোগটি সর্দি কাশি থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। এতে সারা দেহে যন্ত্রণা হয়। নিয়মিতভাবে কমলালেবুর রস পান করলে তা ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।
পাইওরিয়া
এটি হলো দাঁতের কষ্টকর একটি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি প্রতিদিন একটি করে কমলালেবুর রস পান করেন এবং সেই সঙ্গে শুকনো কমলালেবুর খোসা চূর্ণ করে মাজনের সঙ্গে মিশিয়ে দুবেলা দাঁত মাজলে এই রোগ দূর হয়।
যেকোনো চর্মরোগ
ত্বকের যেকোনো রোগে, মাথায় খুশকিতে, একজিমায় কমলালেবুর খোসা বেটে রোগাক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করলে খুবই উপকার দেয়।
ব্রনোরোগ
কমলালেবুর খোসা শুকনো করে গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। ব্রণ হলে কিছু শুকনো খোসা নিয়ে তা কমলালেবুর রসের সঙ্গে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। ওই মিশ্রণ ব্রনোর উপরে প্রলেপ দিলে ব্রণ দূর হয় এবং ত্বকের যেকোনো রোগ দূর করতে সাহায্য করে।
মশা তাড়ানো
কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে একটা শুকনো করে নিতে হবে। ওই শুকনো খোসা জ্বালিয়ে তার ধোঁয়া দিলে মশা ঘর ছেড়ে পালায়।