খরমুজ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া চিকিৎসা।

Written by

in

গ্রীষ্মকালে এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফলটির মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন ভিটামিন এবং লবণ আছে। কয়েক টুকরো খরমুজ প্রতিদিন খেলে দেহের শক্তি বৃদ্ধি পায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। খরমুজ খাওয়ার সঙ্গে দুধ খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। ভরপেট খাওয়ার পরে কম করে দুই ঘন্টা পরে খরমুজ খাওয়া যায়। খালি পেটে এটি খাওয়া উচিত নয়। 

খরমুজ খেলে স্নায়বিক দুর্বলতা, মূত্রদোষ, শুক্রদোষ, হিস্টিরিয়া প্রভৃতি রোগের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক ফল পাওয়া যায়। ডিহাইড্রেশন, অ্যাসিডিটি, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির স্বাস্থ্য, হৃদরোগ প্রতিরোধ, চোখের সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, রক্তস্বল্পতায় ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রেও খরমুজ উপকার করে থাকে। 

দেহের লাবণ্য বা সৌন্দর্য রক্ষায় 

তরমুজের খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে রোদে ভালো করে শুকনো করে তা চূর্ণ করে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজন মত জলের সঙ্গে এই চূর্ণ মিশিয়ে সেই মিশ্রণ সারা দেহের মাখতে হবে। এতে দেহের সৌন্দর্য স্থায়ী হয়। 

এছাড়া খরমুজের বীজ অর্থাৎ দানা শুকনো করে তা চূর্ণ করে সেই চূর্ণ জলে মিশিয়ে দেহে মাখলে ত্বকের কমলতা ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। 

বৃক্ক শূল (কিডনির পাথরের ব্যথা)

 সাধারণ মানুষ একে সরাসরি কিডনিতে পাথরের তীব্র ব্যথা হিসেবেই চেনে।

খরমুজের ছাল ভালো করে রোদে শুকিয়ে তার চূর্ণ করে নিতে হবে । এই চূর্ণ 10 গ্রাম পরিমাণে নিয়ে 30 মিলিলিটার জলে মিশিয়ে আগুনে গরম করতে হবে। এরপর মিশ্রণটি ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যা বেলায় চা চামচের অর্ধেক পরিমাণ রোগীকে খাওয়াতে হবে। এতে রোগী ভালো ফল পেতে পারে। 

পেটের গ্যাস ও পেট ফাঁপা 

  খরমুজের দানা ভালো করে শুকনো করে গুড়ো করে নিতে হবে। এরপর 3 গ্রাম খরমুজের বীজের গুঁড়োর সাথে সামান্য পরিমাণে আদার রস বা পরিবর্তে শুকনো আদার গুঁড়ো মিশিয়ে ইষদ উষ্ণ গরম জল সহ সেবন করুন। এটি অন্ত্রের বায়ু দূর করতে সাহায্য করে এবং পাচনতন্ত্র সচল করে।।

সতর্কতা

খরমুজ খাওয়ার যে সমস্ত ভুলগুলো করলে উপকারের পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে – 

  •  খরমুজ খাওয়ার পর কোনোভাবেই জল পান করা উচিত নয়। এতে হজমপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নষ্ট হতে পারে, তীব্র পেট খারাপ হতে পারে, বমি বা কলেরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  •  একদম খালি পেটে খরমুজ খাওয়া খুবই ক্ষতিকর, কারণ এর কারণে হজম হতে দেরি হয় এবং পেট ফাঁপা হতে পারে। 
  • খরমুজ এবং দুধ একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এটি ‘বিরুদ্ধ আহার’ । এটি শরীরে টক্সিন তৈরি করে চর্মরোগের জন্ম দেয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *