খেজুর: খেজুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

Written by

in

এটি একটি অত্যন্ত সস্তা ফল। এটি সুমধুর স্বাদে এবং পুষ্টিকর উপাদানে ভরা।

খেজুরের নামের পার্থক্য 

 খেজুর কে সংস্কৃতে খর্জুর বলা হয়। হিন্দিতে এবং বাংলাতে একে খেজুর বলা হয়ে থাকে। মালায়ালাম বাসিরা একে বলে ইয়োপালস। ফরাসিতে একে খুরম বলে। ইংরেজিতে এর নাম ডেট পাম্ । ল্যাটিনে বলা হয় পেনিস সিলকোস্টাম। প্রত্যেকেই খেজুর খেতে  পছন্দ করেন। 

      টাটকা খেজুর পোষক ও হালকা বিরোচক হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে থাকে। 

     দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এটি খুবই পুষ্টিকর বলবর্ধক এবং টনিকের মতো কাজ করে থাকে। সেই জন্য তীব্রজর বসন্ত প্রভৃতি রোগে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে  দুধের সঙ্গে খেজুর খেতে দিলে তাড়াতাড়ি সাস্থ লাভ হয়। খেজুর সর্দি, কাশি, জ্বর, হাঁপানি, কণ্ঠনালী সোথ, বুকের কষ্ট, লিভার সম্বন্ধিত কষ্টে দারুণ ভাবে উপকার করে থাকে। খেজুর দ্বারা প্রস্তুত করা সিরাপ অতিসার, শুকনো রোগ, ডায়াবেটিস রোগেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

     আমাদের দেশে যে খেজুর পাওয়া যায় সেগুলি আকারে ছোট হয়ে থাকে। পাহাড়ি অঞ্চলে সিন্ধু অঞ্চলে ও পশ্চিমী অঞ্চলগুলিতে এর উৎপাদন খুব ভালো হয়।  বল্ক, আরব, মিশর, প্রভৃতি পশ্চিমী অঞ্চলে আকারে বড় খেজুর উৎপাদন হয়ে থাকে। 

রোগ প্রতিরোধে উপকারিতা 

     যাদের শরীর দুর্বল, রোগা ও অসুস্থ তাদেরকে যদি হজম শক্তি অনুযায়ী পরিমাণ মতো খেজুর খেতে দেওয়া হয় ভালো উপকার পেয়ে থাকে। যদি নিয়মিত খেজুর খাওয়া হয় তাহলে দুই মাসের মধ্যেই শরীর সুস্থ সবল এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়ে উঠবে। রক্তাল্পতা ও ধাতু দুর্বলতা দূর করতে এই ফল দুধের সঙ্গে খেলে খুবই উপকারী। এর মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদান ত্বকের লাবণ্যতা ফিরিয়ে আনে, মাথার চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং চুল বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পিত্তবিকার, চর্মরোগ ও বাত আরোগ্য করতেও খেজুর অত্যন্ত উপকারী হয়ে থাকে। এবং এটি যৌনশক্তি ও বলবীর্য বৃদ্ধি করে।  

             তবে বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের ক্ষতি ও হয়ে থাকে। এজন্য একবারে তিন-চারটির বেশি খেজুর খাওয়া উচিত নয়। এটি শরীরের পক্ষে গরম হয়ে থাকে। একটি খেজুর নিয়ে দু টুকরো করে কেটে নিন। ভেতরের বীজ ফেলে দিয়ে ভালোভাবে চিবিয়ে খান। তার সঙ্গে একটু করে দুধ খেতে থাকুন তা না হলে খেজুরের টুকরো খাবার পর দুধ খেয়ে গরম জল দিয়ে কুলকুচি করে মুখ ধুয়ে শুয়ে পড়ুন এইভাবে ৪/৫ দিন খেলে গলার সর্দি খুসখুসে কাশি থাকবে না। সকালে জল খাবারের সঙ্গে একটি খেজুর খেয়ে ঈষদ উষ্ণ দুধ খান এতেও সর্দি কাশিতে উপকার পাবেন।

    যদি সর্দি কাশিতে খুবই কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে চার্জে খেজুর নিয়ে ভেতরের দানা বের করে দিন। এরপর এক কাপ দুধে কয়েকটা গোলমরিচ দিয়ে তার মধ্যে বীজহীন খেজুরের টুকরো দিয়ে গরম করুন। ভালোভাবে গরম হয়ে গেলে ওর মধ্যে অল্প ঘি দিন। এবার খেজুরের টুকরো গুলি চিবিয়ে খান সেইসঙ্গে অল্প অল্প করে দুধ খান। এতে সর্দি-কাশি সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে আসা উপশম হয়ে থাকে ।  

     যদি শীতকালে দুটি শুকনো খেজুর দুধের সঙ্গে খাওয়া যায় স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এই ফল আমাশয় ফুসফুস সংক্রান্ত রোগ ও যৌন রোগে খুবই উপকার করে থাকে। এছাড়া শীতকালে শোবার আগে খেজুরের সঙ্গে ঈষদষ্ণ দুধ পান করলে  স্বপ্নদোষ, শীঘ্রপতন, প্রভৃতি রোগে উপকার পাওয়া যায়।  

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *