টম্যাটো: এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

Written by

in

টম্যাটো এমন একটি ফল যা সরাসরি এবং রান্না করে আমরা খেয়ে থাকি। তোরি তরকারিতে টম্যাটো ব্যবহার করলে স্বাদ আরো বেড়ে যায় এবং বিশেষ গুনে ভরিয়ে তোলে। অগ্নিমান্দ রোগে টমেটো খুবই উপকার করে। যাদের পেট ভার হয়ে থাকে, বায়ু বিকার হয়, তাদের ক্ষুধা বৃদ্ধির জন্য টম্যাটোর রস খুব উপকারী। শরীরে ক্ষত হলে নিয়মিতভাবে দু-তিন দিন টম্যাটোর রস খেলে উপকার হয়। পেটের অসুখের পক্ষে টোম্যাটোর রস অত্যন্ত উপকার করে থাকে। 

      টম্যাটোর আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্যালাড এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। টম্যাটোর চাটনি বিশেষভাবে জনপ্রিয় যা আমাদের মুখের রুচিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। টম্যাটো তে সর্বাধিক মাত্রায় ভিটামিন থাকে। এর মধ্যে ভিটামিন A ভিটামিন B এবং ভিটামিন C প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি পুনর্শক্তিদাতা, পাঁচক এবং উত্তেজক। কাঁচা অথবা আধা পাকা টম্যাটো উদর বিকার, লিভার সম্বন্ধিত সমস্যা, এবং প্লীহা বিকারের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু অত্যাধিক ব্যবহার করলে কাম ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। লাল পাকা টম্যাটো ক্ষুধামান্দ্য তে প্রয়োগ করলে এর দ্বারা ক্ষুধা বৃদ্ধি হয়ে থাকে। মধুমেহ অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগে খুব ভালো কাজ দেয়। টম্যাটো নিয়মিত খেলে দেহের মেদ কমে। রক্তাল্পতা রোগে টম্যাটো এর রস খেলে রক্ত বৃদ্ধি হয়।

    টমেটো ম্যালেরিয়া জ্বরে খুবই উপকার করে থাকে। রক্ত শোধন করতে টমেটো তুলনা করা যায় না। এটি মানবদেহে প্রচুর উপকার করে থাকে। এর মধ্যে বেশি পরিমাণে খনিজ লবণ থাকে তার ফলে এটি রক্তের ক্ষার নষ্ট করে দেয়। রোগ প্রতিরোধ করত এটি অত্যন্ত কার্যকরী। এতে দুধের দ্বিগুণ এবং ডিমের পাঁচ গুন আয়রন থাকে, অন্যান্য যাবতীয় ফলের মধ্যে এতে আয়রনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। চুনেরও পরিমাণ বেশ ভালোই থাকে। যে সমস্ত রোগে টম্যাটো ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায় তা নিচে দেওয়া হল। 

চোখ 

বিভিন্ন প্রকার চক্ষু রোগে, দৃষ্টিহীনতায়, চোখ খারাপ হলে টম্যাটোর রস খেলে খুবই উপকার হয় যারা নিয়মিত টম্যাটোর রস খান তাদের চোখের রোগ হয় না দৃষ্টি শক্তি ভালো থাকে।

লাল চাকতি 

রক্ত দুষ্টির ফলে অনেক সময় ত্বকের উপর লাল দাগ পড়ে, মুখের রোগ হলে অথবা দাঁত মাজতে গিয়ে যদি রক্তপাত হয় তাহলে 20 মিলি টম্যাটোর রস প্রতিদিন তিন থেকে চার বার খেলে উপকার পাওয়া যায়। 

দেহে কালো দাগ 

শরীরে ত্বকের উপর কালো দাগ হলে টোম্যাটো এর রস পান করলে দাগ থাকে না। 

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি 

সকালে উঠে খালি পেটে যদি একটি পাকা টম্যাটো খাওয়া যায় দেহে শক্তি বৃদ্ধি পায়, পায়খানা পরিষ্কার হয়। যদি প্রতিদিন পাকা টমেটো খাওয়া যায় স্বাস্থ্য ভালো থাকে, এটি শিশু বৃদ্ধ যুবক-যুবতী সবার পক্ষেই উপকারী। যেসব শিশুদের বোতলে করে দুধ খাওয়ানো হয় তাদের কে দুধের সঙ্গে ১২৫ মিলি করে টমেটোর রস খাওয়ালে দেহ হৃষ্ট পুষ্ট হবে।

দুর্বল শিশু

যে সমস্ত শিশুরা দুর্বল তাদেরকে যদি নিয়মিত টম্যাটো এর রস খেতে দেওয়া হয় তাদের শরীর আরো পুষ্ট হবে শরীরের বিকাশ হবে। আবার শিশুদের দাঁত ওঠার সময় কোনরকম উপসর্গ দেখা দিলে টম্যাটো এর রস খাওয়ালে খুব সহজেই শিশু দেবে দাঁত ওঠে। দাঁত ওঠার সময় উপসর্গ দেখা দিলে টমেটোর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে একটু একটু করে এক ঘন্টা পর পর খেতে দিতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সব উপসর্গ দূর না হয় ততক্ষণ।

যকৃতের দোষে

লিভার খারাপ হলে কিংবা ঠিকমতো কাজ না করলে টমেটো রস নিয়মিত খেতে দিলে তা দেহের ভিতর সব দূষিত পদার্থ নষ্ট করে দেয় যকৃত সবল করে তোলে।  

রক্তাল্পতা 

টম্যাটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ থাকে ফলে দেহের রক্ত বৃদ্ধিতে এবং রক্ত পরিষ্কার করতে টম্যাটোর রস খুবই উপকারী।

প্রমেহ 

টম্যাটো স্যালাড হিসাবে অথবা টোম্যাটোর রস দুই সপ্তাহ নিয়মিত খেলে প্রমেহ রোগ দূর হয়।

অ্যাপেন্ডিক্স 

অ্যাপেন্ডিক্স এর সমস্যায় পাকা টমেটো রান্না না করে সরাসরি খেলে খুবই উপকার দেয়।

শিশুদের শুকনো রোগ 

টম্যাটো এর রস শিশুদের খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে। যার ফলে শিশুদের শরীর সুস্থ সবল থাকে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *