আনারস ব্যবহার করে ঘরোয়া উপাচার ও রোগ প্রতিরোধে আনারসের উপকারিতা

আনারস আমাদের কাছে খুবই পরিচিত এবং পছন্দযুক্ত একটি ফল । এর পাতা কিছুটা মোটা হয়ে থাকে। গ্রীষ্ম প্রধান দেশে উষ্ণ এবং আদ্রতা যুক্ত আবহাওয়ায় এর চাষ খুব ভালো হয়। ভারতবর্ষেও এর চাষ প্রচুর পরিমাণে হয়ে থাকে । বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও কেরালায় আনারসের চাষ খুব ভালো হয়। 

আনারস বেশ সুস্বাদু এবং অরুচি নাশক। এর বৈজ্ঞানিক নাম হল (Ananas comosus)।

হৃদপিন্ডের দুর্বলতা নাশক ফল এতে ভিটামিন সি আয়রন খনিজ দ্রব্য আছে। বিরেচক রূপে এটি কাজ করে পেট পরিষ্কার করে থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত রোগ দূর করে থাকে। এটি একটি টনিকের নেয় পুনর্জীবন দাতা ও বলা চলে আনারসের রস গর্ভাশয়ের সংকোচন করে সেই জন্য গর্ভবতী নারীকে দেওয়া উচিত নয়। 

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী আনারস:

  • রুচিবর্ধক
  • হজম শক্তি বর্ধক 
  • কফনাশক
  • তৃষ্ণানাশক
  • মূত্রবর্ধক
  • শরীরের ক্লান্তি দূরকারী

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আনারসকে পিত্ত ও কফ দোষের ভারসাম্য রক্ষাতে সহায়ক বলে বিবেচনা করা হয়, তবে এর অতিরিক্ত সেবন পিত্ত বৃদ্ধি করতে পারে।

আনারসের স্বাস্থ্য উপকারিতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

ভিটামিন সি শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধি করে এবং কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ঠান্ডা লাগা সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীর আরো শক্তিশালী হয়।

হজমশক্তি উন্নত করে

খাওয়ার পরে আনারস খেলে আনারসের মধ্যে থাকা ব্রোমেলিন খাদ্যের কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে থাকে এবং বদহজম কমায়।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

আনারসের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।

হাড় মজবুত করে

আনারসের মধ্যে থাকা ম্যাঙ্গানিজ হাড়ের গঠনে ও শক্তি বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক।

ত্বক উজ্জ্বল রাখে

আনারসের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা

আনারসের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে।

রোগ প্রতিকারের আনারসের ব্যবহার

জ্বর: 

আনারসের রস খেলে জ্বর উপশম হয় 

পেটের রোগে :

আনারসের রস খেলে পেটের রোগে অত্যন্ত উপকার পাওয়া যায়। 

জন্ডিস :

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আনারসের রস খাওয়ালে খুব উপকার পাওয়া যায় 

কোষ্ঠকাঠিন্য :

কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে পাকা আনারসের টুকরো খেলে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। 

সকালে খালি পেটে পরিমিত আনারস খান।  আনারসে থাকা ফাইবার অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

গোলক্ষত :

   পাকা আনারসের রস গোলক্ষত রোগের পক্ষে খুব ভালো কাজ দেয়।

ডিপথেরিয়া :

ডিপথেরিয়া রোগের আশঙ্কা দেখা দিলে পাকা  আনারসের রস খাওয়ালে প্রচুর উপকার পাবেন।  

অজীর্ণ :

আনারসের  টুকরোতে নুন ও মরিচ গুঁড়ো সহযোগে খেলে  অজীর্ণতা দূর হয়। 

পাথুরী রোগ :

আনারসের রস নিয়মিত খেলে পাথুরী রোগীদের  (যাদের কিডনি স্টোন এই ধরনের রোগ রয়েছে) খুব উপকার দেয়।

পেটের ব্যথা :

আনারসের রসে সাদা জিরের গুঁড়ো ও সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে খেলে পেট বেদনা কমে। 

অরুচি দূর করতে :

আনারসের টুকরোতে সামান্য বিট লবণ ও ভাজা জিরা গুঁড়ো ছিটিয়ে খেলে তা ক্ষুধা বাড়ায় এবং মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে।

বদহজমে :

এক কাপ আনারসের রসের সঙ্গে সামান্য আদার রস মিশিয়ে পান করলে। এটি গ্যাস ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে।

গলা ব্যথায় :

তাজা আনারসের রস জলে মিশিয়ে তা সামান্য ঈষদ উষ্ণ গরম করে পান করুন। এটি অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করবে।

শরীরের ফোলা ও প্রদাহে :

নিয়মিত পরিমাণ মতো পাকা আনারস খান। এতে আনারসের মধ্যে থাকা ব্রোমেলিন প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

দুর্বলতা দূর করতে :

এক কাপ আনারসের রসের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ টা তুলসী পাতা একসঙ্গে খেলে দুর্বলতা দূর হয়।

        গ্রীষ্মকালে আনারসের শরবত নিয়মিত খেলে গ্রীষ্ম জনিত শ্রান্তি ক্লান্তি দূর হয়। আমাশয় ও যকৃতের দোষেও আনারস খুব উপকারী। এতে প্রস্রাব সরল রাখে।

আনারস খাওয়ার সতর্কতা

অতিরিক্ত আনারস খেলে অম্বল বা পেটের ব্যথা হতে পারে।

আনারসে অ্যালার্জি থাকলে তারা এটি এড়িয়ে চলুন।

ডায়াবেটিস রোগ থাকলে পরিমাণ মতো খাবেন।

গর্ভাবস্থার সময় স্বাভাবিক পরিমাণে আনারস  নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত সেবনে সমস্যা হতে পারে। তাই আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ চলাকালীন অতিরিক্ত আনারস খেতে চান তবে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

Leave a Comment