খরমুজ এর পুষ্টিগুণ

Written by

in

খারমুজ — গ্রীষ্মের মিষ্টি রসে ভরা শীতল ফল খারমুজ একে ইংরেজিতে Muskmelon বা Cantaloupe বলা হয়। যারা আগে কখনও খারমুজ খেয়েছেন এর নাম শুনলেই  ঠান্ডা, রসালো, সুগন্ধি এক মিষ্টি স্বাদের  সেই পুরনো স্মৃতির কথা মনে পড়ে যায়। গরম দুপুরে  এক টুকরো খারমুজ মুখে দিলেই যেন শরীর-মন দুটোই ঠান্ডা ও তাজা হয়ে যায়। এর সোনালি-কমলা রঙ, মোলায়েম নরম শাঁস, আর হালকা মধুর মতো মিষ্টি গন্ধ জিভে জল এনে দেয়। শুধু স্বাদেই নয়, এটি প্রকৃতির এক পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির গুণে ঠাসা প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। 

এই ফলটিকে আমরা খরমুজ, খারমুজ, খর্বুজ বা বাঙ্গি নামে চিনি। খারমুজের বৈজ্ঞানিক নাম হল Cucumis melo। এটি Cucurbitaceae  পরিবারভুক্ত ফল। আয়ুর্বেদের মতে এটি তৃষ্ণা নিবারণকারী, শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমায়, প্রস্রাব পরিষ্কার রাখে।

USDA এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টাটকা খরমুজে  প্রায় 34 ক্যালোরি থাকে। এটিতে ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘এ’-প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিম্নে প্রতি ১০০ গ্রাম খরমুজের পুষ্টিগুণ এবং তা দৈনিক চাহিদার কতটা পূরণ করতে পারে তালিকা দেয়া হলো। 

খরমুজের পুষ্টিগুণ

  • জল : 89–90.2 গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট : 8–8.16 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার 3%)
  • প্রাকৃতিক চিনি : 7–8 গ্রাম 
  • ফাইবার : 0.8–1 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার 4%)
  • প্রোটিন : 0.84 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার 2%)
  • ফ্যাট : 0.19–0.2 গ্রাম (দৈনিক চাহিদার 0.5%)

ভিটামিনসমূহ 

  • ভিটামিন C : 36-55 mg (দৈনিক চাহিদার 41-61%)
  • ভিটামিন A ( Beta-carotene ) : 160–232 mcg (দৈনিক চাহিদার 113%)
  • ভিটামিন B9 (ফোলেট) : 21 মাইক্রোগ্রাম  (দৈনিক চাহিদার 5%)
  • ভিটামিন  K : 2.5 মাইক্রো গ্রাম (দৈনিক চাহিদার 2%)
  • ভিটামিন  B6 : 0.07 মিলি গ্রাম ( দৈনিক চাহিদার 4%)

এছাড়াও ভিটামিন B3 (Niacin) , ভিটামিন B1 , ভিটামিন B2 ভিটামিন অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়।

খনিজ উপাদান 

  • পটাশিয়াম :  267 mg (দৈনিক চাহিদার 6% থেকে 8%)
  • ম্যাগনেসিয়াম :  12 mg (দৈনিক চাহিদার 3%)
  • ক্যালসিয়াম :  9 mg (দৈনিক চাহিদার 1%)
  • সোডিয়াম : 16 mg (দৈনিক চাহিদার 1%)
  • আইরন : 0.2-0.4 mg (দৈনিক চাহিদার 1%)

এছাড়াও ফসফরাস 15 mg, জিংক 0.18 mg, কপার 0.08 mg অতি অল্প পরিমাণে পাওয়া যায় যা দৈনিক চাহিদার 1% এর থেকেও কম।

আয়ুর্বেদে খারমুজের গুরুত্ব

আয়ুর্বেদ গ্রন্থে খরমুজকে ‘খরবুজম’ বলা হয়ে থাকে।এবং এটি “গ্রীষ্ম ঋতুর অমৃত” বলে বিবেচিত। আয়ুর্বেদ মতে খারমুজ অতিরিক্ত পিত্ত  এবং বাত  দোষের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীর ঠান্ডা রাখে, রক্ত শুদ্ধ করে, এটির মূত্রবর্ধক উপাদান  মূত্রথলি পরিষ্কার রাখে এবং প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমাতে খুবই উপযোগী। এটি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং তীব্র তৃষ্ণা দূর করে থাকে। 

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় যে, খরমুজ শুধুমাত্র গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে শরীর শীতল করা, প্রাণ জুড়ানো একটি সুস্বাদু ফল ছাড়াও এটি একটি পুষ্টির ভাণ্ডার এবং প্রকৃতির এক মহৌষধ। এর মধ্যে থাকা উচ্চ জলীয় অংশ, শক্তি, ভিটামিন এবং খনিজের প্রাচুর্য জীবজন্তুকে সুস্থ সবল রাখে, শরীরের শক্তি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। কিডনিকে সুস্থ সবল রাখতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে পিত্তনাশক, শীতল এবং মূত্রজনিত রোগ নিরাময়ে এক অন্যতম চমৎকারি ফল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।   এই গরমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টাটকা খরমুজ রাখা সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের এক সহজ পদক্ষেপ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *